Magic Lanthon

               

ইব্রাহীম খলিল

প্রকাশিত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

বিতর্কিত ইস্যুতে সাহসী এক ওয়েব সিরিজ রিফিউজি

ইব্রাহীম খলিল

'রিফিউজি' সিরিজকে এক বাক্যে বলতে গেলে এই হতাশা আর ক্ষোভের কথাটির প্রতিফলন বলা চলে। 'ওয়াসিম' চরিত্রটির এই আর্তচিৎকার শুধু একটি প্রশ্ন না, একটি স্টেটমেন্টও যার উত্তর লাখো বিহারি আজও খুঁজে ফিরছে চাতকের মত। দেখেও না দেখার মত রাজধানী ঢাকার বুকে যে তথাকথিত 'আটকে পড়া পাকিস্তানি'রা আছে, তাদের বুক ভাঙা দীর্ঘশ্বাস যেন হাওয়া হয়ে মিলিয়ে যায় ওইটুকু ক্যাম্পের ভেতরেই। ওয়াসিম ছাড়াও 'রিফিউজি'র গল্পে আরো তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আছে।

ইকবাল, খুনের ঝামেলায় জড়িয়ে জেলহাজতে আটকে থাকা ছোট ভাইকে ছাড়াতে মরিয়া এক বিহারি যুবক। মারিয়া, ব্যক্তিগত ব্যথা বেদনার অতীত সঙ্গে করে এগিয়ে চলা এক সাহসী ইন্টেলিজেন্স অফিসার। আছে 'কার্বন'ও। যদিও 'কার্বন' তার আসল নাম না, তবে সে এই সিরিজের এক্স ফ্যাক্টর।

বিহারিদের দোদুল্যমান জীবন আর পুলিশের তৎপরতায় এই ওয়ান্টেড কোড নেম 'কার্বন' এসে বিভক্ত করে দেয় বন্ধু ইকবাল আর ওয়াসিমকে।  ওয়াসিমের মনেও আছে অসন্তোষ, যার বাবা আজীবন চান পাকিস্তানে তার কবর হোক। গল্প এগিয়ে যায় মারিয়ার ইনফর্মার হিসাবে ইকবালের মাধ্যমে বিহারি ক্যাম্পের তথ্য পাচার আর ওয়াসিম ইকবালের দ্বন্দ্বের জেরে অঘটন নিয়ে। পারিপার্শ্বে জড়িয়ে থাকা স্বাধীনতার পক্ষের মুক্তিযোদ্ধা আর কার্বনের পক্ষের ক্রিমিনালও আছে গল্পের ইট পাথর হয়ে।

'রিফিউজি'র সবচেয়ে বড় পজিটিভ দিক, যে থিমের ওপর গল্পের ভিত তার সাহসী রূপায়ন। গল্পটির সময়কাল দেখানো হচ্ছে স্বাধীনতার ৩৬ বছর পার হবার পর। আজ এই সময়ে দাঁড়িয়েও মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ কিছু জায়গায় একচ্ছত্র হয়ে বাস করা মানুষগুলোর কথা তাদের মুখ থেকে শোনা যায় নি। এই সিরিজে উর্দু হিন্দী মিশ্রনে কথা বলা মানুষের আওয়াজ, আর্তনাদ, চাহিদা, অভাব আর ভয়ংকর রূপ সব দেখানো হয়েছে খোলাখুলিভাবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন