Magic Lanthon

               

রফিক মুয়াজ্জিন

প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

বাংলাদেশে শিশু চলচ্চিত্র আন্দোলন

আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে

রফিক মুয়াজ্জিন

আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে' শিরোনামে লেখাটি ২০১০ সালে চিলড্রেন' ফিল্ম সোসাইটি, রাজশাহী' শিশুদের জন্য আয়োজিত সেমিনারে পাঠ করা হয়। পরে লেখাটির কলেবর বাড়িয়ে প্রস্তুত করা হয় ম্যাজিক লণ্ঠন এর জন্য। অন্যদিকে ২০১১ সালে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ৩য় আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের সেমিনারে 'শিশু চলচ্চিত্র আন্দোলন, শহরকেন্দ্রিকতা গ্রামের শিশুরা' নামে আরেকটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বক্তব্যের দিক থেকে দুটি প্রবন্ধ বিপরীতমুখী হওয়ায় ম্যাজিক লণ্ঠন তা পর পর ছাপানো হলো

 

নেই। নেই-এর ভিতর বেড়ে উঠছে আমাদের শিশুরা। খেলার মাঠ নেই, শিশু সাহিত্য নেই, শিশুদের উপযোগী টিভি অনুষ্ঠান নেই, ক্লাশ কোচিং-এর বাইরে অবসর নেই, শিশুতোষ চলচ্চিত্র নেই; সর্বোপরি শিশুদের বেড়ে উঠবার উপযুক্ত পরিবেশও নেই। যেটুকু আছে তা এতোটাই অপর্যাপ্ত যে সেটা নেই-এর সামিল। আমরা ক্রমাগত খুব স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছি। যা করছি সব বড়দের জন্য। শিশুদের জন্য ভাবছি না, ভাবার চেষ্টাও করছি না

শিশুরা পরনির্ভরশীল হয়েই জন্মায়। তাকে খাইয়ে না দিলে খেতে পারে না, হাত ধরে না হাঁটালে হাঁটতে শেখে না। তারা যতদিন না নিজে নিজে খেতে, পড়তে পারে, ততোদিন খাওয়ানো, পড়ানোর দায় আমাদের উপরই বর্তায়। শিশুরা নিজেদের জন্য যা করতে পারে তা সামান্য। তারা যেমন খেলার মাঠ বানাতে পারে না, শিশু সাহিত্য রচনা করতে পারে না, তেমনি পারে না শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে। সুতরাং খাওয়ানো, পড়ানোর পাশাপাশি এসব করা আমাদের কর্তব্যের ভিতরে পড়ে। শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির জন্য যেমন তাকে বিশেষ পুষ্টিকর খাবার দিতে হয়, তেমনি মানসিক বিকাশের জন্যও দিতে হবে বিনোদন-খোরাক। তাদের উপযোগী সাহিত্য, গান, নাটকের ব্যবস্থা করে দিতে হবে বড়দেরকেই। সাহিত্য, নাট্য, নৃত্য, চিত্র, সঙ্গীত প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয় চলচ্চিত্র হতে পারে শিশুদের মানসিক বৃদ্ধির জন্য সুষম খাদ্যের মতো

ছড়া, রূপকথার গল্পের ভেতর দিয়ে শিশুরা তৈরি করে নিজেদের স্বপ্নের জগৎ। তখন তথ্য তত্ত্ববহুল প্রবন্ধ তাদের কাছে নিতান্তই কাটখোট্টা মনে হয়। তেমনি সব চলচ্চিত্র শিশুদের আগ্রহী করতে পারে না। তাদের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ ধরনের চলচ্চিত্র। আর সেটাই শিশুতোষ চলচ্চিত্র নামে পরিচিত। দাঁতবিহীন মাড়ি দিয়ে শিশুরা হাড় চিবোতে পারে না, তাদের দিতে হয় নরম ভাত, সব্জি-খিচুড়ি, স্যুপ। তেমনি প্রচলিত সব সিনেমা শিশুদের আকর্ষণ করে না। তাদের দেখাতে হয় দীপু নাম্বার টু, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী, চিলড্রেন অব হ্যাভেন, কিংবা তারে জামিন পার' মতো সিনেমা।তবে ধরনের সিনেমার নির্মাণ আমাদের দেশে তো বটেই, বিশ্বেও খুব বেশি হয়নি

১৮৯৫ সালে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরুর পর পৃথিবীতে যত চলচ্চিত্র হয়েছে তার খুব অল্প সংখ্যকই শিশুদের উপযোগী করে নির্মিত। সিনেমা সংশ্লিষ্টরা শিশুদের নিয়ে শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণে বরাবরই উদাসীনতা দেখিয়েছেন। অথচ সিনেমা-দর্শকদের মধ্যে শিশু-দর্শকের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। তাই বাধ্য হয়েই সহিংসতা যৌনতায় ঠাসা চলচ্চিত্র দেখে মানসিক অজীর্ণতায় ভুগছে গোটা পৃথিবীর শিশু। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অনুন্নত দেশগুলোতে- যেখানে শিশুদের বিনোদনের সুযোগ কম, সেখানে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। অস্ত্র কী তা বোঝার আগেই তারা দেখছে অস্ত্রের ব্যবহার, ধ্বংসযজ্ঞ; যৌনজ্ঞান হবার আগেই উপভোগ (?) করছে বিকৃত যৌনতা। যেটা শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যাকশন, যৌনতানির্ভর চলচ্চিত্রের বাইরে যেসব চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যাকে আমরা আর্ট ফিল্ম বলছি, তার কাহিনী, সংলাপ, নির্মাণকৌশলও শিশুদের উপযোগী নয়। ইনটেলেকচুয়াল মন্তাজ শিশুদের বুঝবার কথা নয়, যেমন তারা বোঝে না আধুনিক কবিতার উৎপ্রেক্ষা, সমাসোক্তি, রূপকল্প-চিত্রকল্প। সুতরাং শিশুদের পছন্দের কাহিনী, সংলাপ নির্মাণকৌশলে শিশুতোষ চলচ্চিত্র বানানোর প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা যায় না

শিশু চলচ্চিত্রের ইতিহাস নতুন নয়। ১৮৯৫ সালেই লুমিয়ের ব্রাদার্স নির্মাণ করেন বেবি অ্যাট ব্রেকফাস্ট টেবিল এর অব্যবহিত পরে নির্মিত হয় বয়েজ অন দ্য স্ট্রিট, দ্য লিটল গার্ল এন্ড হার ক্যাট সে সময় লুমিয়ের ব্রাদার্সরা যে ছবি বানালেন সেখানেও অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে প্রাধান্য দিলেন শিশুদেরকে।এরপর চলচ্চিত্র অনেক দূর এগোলেও শিশু বিষয়ক চলচ্চিত্র তেমন এগোয়নি

শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি হতাশাজনক। ষাটের দশকে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরুর পর শিশু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে হাতে-গোনা কয়েকটি। বর্তমানে প্রতি বছর কমবেশি -খানেক চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হলেও একটি বা দুটির বেশি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে না। বাচ্চাদের ঘুরে ফিরে দীপু নাম্বার টু, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী দেখতে হয়। পাকিস্তান আমলে পাকিস্তান শিশু চলচ্চিত্র সমিতি গঠন করা হয় শিশু চলচ্চিত্রের গুরুত্বের কথা উপলব্ধি করে। কিন্তু সংগঠনটি শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে নি। এর দীর্ঘ আট বছর পরে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে শিশু-কিশোরদের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন মাসিক সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ফজলুল হক। লেখিকা রাবেয়া খাতুনের কিশোর উপন্যাস দুঃসাহসিক অভিযান অবলম্বনে তৈরি করেন প্রেসিডেন্ট নামক স্বল্পদৈঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র। সেন্সর বোর্ড নাম নিয়ে আপত্তি জানালে পরে এটি সন অব পাকিস্তান নামে ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায়। এর ১১ বছর পর চলচ্চিত্র প্রকাশনা দফতরের প্রযোজনায় সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকি নির্মাণ করেন অঙ্কুর ১৯৭৮ সালে সুভাষ দত্ত নির্মাণ করেন ডুমুরের ফুল

সরকারি অনুদান নিয়ে ১৯৮০ সালে বাদল রহমান নির্মাণ করেন প্রথম পূণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্র এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী একই বছরে খান আতাউর রহমান নির্মাণ করেন ডানপিঠে ছেলে, আজিজুর রহমান নির্মাণ করেন ছুটির ঘণ্টা ছবিটি। ১৯৮২ সালে শিশু একাডেমীর প্রযোজনায় গল্প দাদুর গল্প কথা নামক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকি। মূলত বাংলাদেশি নির্মাতাদের মধ্যে শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণে সফলতা দেখিয়েছেন খ্যাতিমান নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম। তাঁর দীপু নাম্বার টু, দূরত্ব আমার বন্ধু রাশেদ শিশু-কিশোরদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো শিশু চলচ্চিত্র নিয়ে সরকারিভাবে যে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি কাজ করার কথা সেই বাংলাদেশ শিশু একাডেমী শিশুর প্রতি দায়মোচনের দায়সারা কাজ করেছে। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য স্বল্পদৈঘ্য মিলিয়ে তারা নির্মাণ করেছে বিশটির মতো চলচ্চিত্র। এই পরিসংখ্যানগুলো আমাদের দেশের শিশুতোষ চলচ্চিত্রের জীর্ণদশার চিত্রই তুলে ধরে

বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার মধ্যে বড় ছোটর (শিশু) অনুপাত ৫৯.৩৭ : ৪০.৬৩। সেই হিসাবে নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে ৪০ ভাগ অর্থাৎ দশটির মধ্যে চারটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয় না এই অজুহাতে যে, শিশু চলচ্চিত্র বানিয়ে ব্যবসা করা যায় না।অথচ শিশু চলচ্চিত্র মানেই যে বাণিজ্যিকভাবে অসফল তা কিন্তু নয়। শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি ওয়াল্ট ডিজনী শুধু শিশু চলচ্চিত্র (এ্যানিমেটেড) নির্মাণ করেই কিন্তু যথেষ্ট ব্যবসায়িক সফলতা পেয়েছিলেন। ১৯৩৪ সালেই স্নো হোয়াইট এ্যান্ড সেভেন ডোয়ার্ফস আড়াই কোটি ডলার ব্যবসা করে। চার্লি চ্যাপলিনের অন্যান্য চলচ্চিত্রের তুলনায় দ্য কিড কম ব্যবসা সফল ছিল তা কেউ হলফ করে বলতে পারবে না

ইতালির ডি-সিকার দ্য বাইসাইকেল থিভ্‌স, ফ্রাঁসোয়া ক্রফোর ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ, ইরানি নির্মাতা মজিদ মজিদির চিলড্রেন অব হ্যাভেন কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি যথেষ্ট ব্যবসা করেছে।একইভাবে ২০০৭ সালে বলিউডের তারে জামিন পার ছবিটি গ্লামার নির্ভর বহু হিন্দি সিনেমাকে টেক্কা দিয়ে বক্স অফিস হিট করে। বাংলাদেশেও দীপু নাম্বার টু ছুটির ঘণ্টা যথেষ্ট ব্যবসা সফল। এসব দৃষ্টান্তের পরেও শুধুমাত্র বাণিজ্যের অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকারদের শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণে অনীহা পৃথিবীর যে কোনো দেশের নির্মাতাদের থেকে বেশি। এটা বোঝা যায়, এদেশে শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণের সর্বনিম্ন হার দেখে

এই হতাশার দোয়াত-কালো অন্ধকারে সুরঙ্গের শেষে ক্ষীণ আলোর মতো দেখা দিয়েছে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি।। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর পর্যন্ত তারা চারটি আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করেছে। এর পাশাপাশি ছিল শিশু চলচ্চিত্র বিষয়ক সেমিনার, চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা। যা আমাদের শিশুতোষ চলচ্চিত্রের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে তোলে। চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি ঢাকায় যে শিশু চলচ্চিত্র আন্দোলনের সূচনা করেছিল তার ঢেউ গত পাঁচ বছরে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে

রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, বরিশাল, খাগড়াছড়ি, ফেনী, জয়পুরহাট প্রভৃতি জেলায় চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটির শাখা সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শাখাগুলোও প্রতি বছর শিশু চলচ্চিত্র উৎসব শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ, সেমিনার, কর্মশালাসহ নানাবিধ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করার ব্রত নিয়েছে। রাজশাহীতে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি ২০০৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব, দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা, দুটি সেমিনার আয়োজন করেছে। রাজশাহীর মতোমফস্বলশহরে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটির শিশুরা নির্মাণ করেছে ১৭টি স্বল্পদৈর্ঘ্য শিশু চলচ্চিত্র।এ অগ্রগতি হয়তো খুব বেশি নয়, তবু শুরু হিসেবে মন্দও বলা যায় না। অভিভাবক রাষ্ট্র যখন শিশুদের প্রতি তাঁর দায় এড়িয়ে চলে তখন একটি অলাভজনক সংগঠন এর বেশি কী-বা করতে পারে

পৃথিবীর সব সভ্য দেশই শিশুদের মানসিক বিকাশ, চরিত্র গঠন, সর্বোপরি শিক্ষাদানের জন্য শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ১৯৪৪ সালে চিলড্রেনস ফিল্মস এন্টারটেইনমেন্ট ডিভিশন এর জে. আর্থার ব্যাঙ্ক শিশু চলচ্চিত্র তহবিল গঠন করেন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠানটি পর্যন্ত কয়েকশ শিশু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে। ৮০র দশক থেকে তারা আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন করে আসছে

আমাদের দেশে স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি গঠন করা হলেও কোনো রকম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় তা অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং পরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর ২০০৫ সালে একান্ত ব্যক্তি উদ্যোগে চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে। প্রথিতযশা চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল প্রমুখ ব্যক্তিগণের উদ্যোগে শুরু হওয়া সংগঠনটি বর্তমানে বাংলাদেশে শিশু চলচ্চিত্র আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এখন শিশুদের তথা আগামী প্রজন্মের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থ সরকার দেশের কল্যাণকামী মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে

ক্লাশ, কোচিং, হোমটাস্কের পাথরচাপা-ভার থেকে মুক্ত করে ক্ষণিকের জন্য হলেও সেলুলয়েডের সুন্দর জগতে শিশুদের ছেড়ে দিতে হবে। তারা ক্যামেরার লেন্সকে তৃতীয় চোখ বানিয়ে দেখুক দেশ-বিদেশের জনজীবন, সংস্কৃতি, পরিবেশ। জানুক নিজেকে, জানুক বিশ্বকে

 

লেখক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়েছেন এছাড়া তিনি চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি, রাজশাহী শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন

 

তথ্যসূত্র

. বিমূর্ত ধারণাকে দৃশ্যগতভাবে প্রকাশ করাই ইনটেলেকচুয়াল মন্তাজ| একটি শটের পর আরেকটি শট জোড়া দিলে যদি ওই শট দুটির আপাত অর্থের অতিরিক্ত তৃতীয় বা অন্য অর্থ উৎপন্ন করে তাহলে তাকে ইনটেলেকচুয়াল মন্তাজ বলে। অর্থাৎ +=

. কাদের, মির্জা তারেকুল (১৯৯৩:২৭৯); বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প; বাংলা একাডেমী, ঢাকা

. প্রাগুক্ত, কাদের (১৯৯৩:২৭৬)

. রফিক, মনিস (২০১০:১৬৫); চলচ্চিত্র বিশ্বের সারথি; রোদেলা প্রকাশনী, ঢাকা

. ১৯৪৮ সালে নির্মিত নিওরিয়ালিজম ধারার অন্যতম চলচ্চিত্র। ছবিটিতে গুরত্বপূর্ণ চরিত্রে রূপদান করেছে একটি শিশু

. প্রাগুক্ত, কাদের (১৯৯৩:২৭৯)

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন