Magic Lanthon

               

শুভ কর্মকার ও রোকনুজ্জামান রাকিব

প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

টেলিভিশন চ্যানেল প্রযোজিত চলচ্চিত্রকানা মামা, নাকি শকুনি মামা

শুভ কর্মকার ও রোকনুজ্জামান রাকিব

চলচ্চিত্র প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পমাধ্যম। প্রযুক্তি বাদেও পুঁজি ও নির্মাতা চলচ্চিত্রের আরও গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়। এই পুঁজি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মাতা সিনেমাকে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে যিনি পুঁজির যোগান দিয়ে থাকেন তাকে বলা হয় প্রযোজক। সেই প্রযোজক হয় কখনো ব্যক্তি, কখনো প্রতিষ্ঠান; বিশ্ব প্রযোজনার ইতিহাস এমনটাই বলে। বাংলাদেশও এ ইতিহাসের বাইরে নয়। রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানী, নবাব পরিবার, ইকবাল ফিল্মস থেকে অমি-বনি কথাচিত্র তারপর প্রযোজনায় এসেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল (চ্যানেল আই, এটিএন বাংলা, এনটিভি ইত্যাদি)। যেকোনো সংকটে নতুন কিছুর আগমন সব সময় আশার সঞ্চার করে। তেমনি আশা নিয়ে চরম এক সংকটে আমাদের দেশে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় এসেছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। সেটাও প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেছে। সময় এসেছে প্রযোজক হিসেবে তাদের মূল্যায়নের। যদিও এ ধারার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্মের অন্যতম কর্ণধার ফরিদুর রেজা সাগর নিজেদের ঢোল বাজিয়ে ফেলেছেন। সিনেমা প্রযোজনা নিয়ে তার ভাষ্যটা অনেকটা এরকম- ‘আমরা আসলে ভালো কাজের পৃষ্ঠপোষকতা করি’। তারপরও কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়; যুগপূর্তিতে এসে এই ধরনের প্রযোজনা থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কী পেল? এ রকম নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমাদের এ প্রয়াস।

হীরালাল সেন দিয়ে শুরু

এপ্রিল ৪,১৮৯৮। রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানী। অবিভক্ত বাংলার প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনী সংস্থা্ প্রতিষ্ঠা করেন হীরালাল সেন। ওই বছরেই তিনি শুটিং করেন Dancing Scens from ‘The flower of Persia’| এটিকে ভারতীয়দের নির্মিত সবচেয়ে পুরানো চলচ্চিত্র হিসেবে ধরা হয়। এরপরের ইতিহাসটাও হীরালালেরই, ১৯০৪ সালে তিনি নির্মাণ করলেন আলী বাবা চল্লিশ চোর । এবার তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হলেন অনেকে। প্রতিষ্ঠা পেল আরও কয়েকটি প্রযোজনা সংস্থা। এর মধ্যে প্রথম সারিতে ছিল- ফ্রাম জি মদনের মদন, নারায়ণ বসাকের লন্ডন বায়োস্কোপ, অনীল চট্টোপাধ্যায়ের ইম্পারিয়াল, প্রমথ নাথ গাঙ্গুলীর ওরিয়েন্টাল বায়োস্কোপ ও সত্যচরণ ঘোষের বেংগল বায়োস্কোপ এগুলোর মালিকানা ভারতীয়দের হাতে থাকলেও তৎকালীন পূর্ব বাংলার অনেকেই এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।বিশ শতকের শেষ ভাগে চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে এলেন ঢাকার নবাব পরিবারের সংস্কৃতিমনা তরুণেরা। তাঁরা গড়ে তুললেন ঢাকা ইস্ট বেঙ্গল সিনেমাটোগ্রাফ সোসাইটি আর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯২৮ সালে নির্মিত হয় সুকুমারী, পরের বছর দি লাস্ট কিস

বিশের দশক থেকে পঞ্চাশের দশক পর্যন্ত মূলত ঢাকায় কোনো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠেনি।সেই সময় পূর্ব বাংলায় প্রদর্শিত হতে থাকে ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু ও তৎকালীন কলকাতায় নির্মিত বাংলা সিনেমা।১৯৫৩ সালে কলকাতার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইকবাল ফিল্মস (মুখ মুখোশ সিনেমার প্রযোজক) ঢাকায় পুনর্গঠিত হয়।এই সময়ে পূর্ব বাংলায় তেমন কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা প্রযোজক ছিল না বললেই চলে।সেসময় গড়ে ওঠে বিদেশী সিনেমার বেশ কিছু পরিবেশক প্রতিষ্ঠান।এগুলোর মধ্যে ঢাকা পিকচার প্যালেস, ইস্ট এন্ড ওয়েস্ট ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটর, ঢাকা ফিল্মস, পাকিস্তান ফিল্ম  ট্রাস্ট, মল্লিক ফিল্ম উল্লেখযোগ্য।

ব্যবসায়িক কারণেই কলকাতার পরিবেশক সংস্থাগুলো সিনেমা বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে প্রাধান্য দিত। কিন্তু ১৯৬৫ সালে এসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করা হয় ভারতীয় সিনেমা। ফলে সংকটে পড়ে পূর্ব পাকিস্তানের উদীয়মান চলচ্চিত্র শিল্প। এমন এক সংকটে দেশীয় সিনেমাকে বাঁচাতে প্রযোজনা ও নির্মাণে এগিয়ে আসেন অনেকে। এদের মধ্যে অন্যতম মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, দোসানী ফিল্মলিওফিল্ম

স্বাধীনতা যুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর সময়ে অবাঙালি প্রযোজকরা রাজনৈতিক কারণে দেশ ত্যাগ করেন। অন্যদিকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দেয়। প্রযোজকদের সেই ফাঁকা স্থান দখল করে এক শ্রেণীর নব্য অর্থশালী। এর কিছু সময় পর প্রদর্শক ও প্রথম সারির অনেক শিল্পীকেও প্রযোজনায় আসতে দেখা যায়। এদের মধ্যে পারভেজ ফিল্মস (পরিচালক ও নায়ক মাসুদ পারভেজ), ববিতা মুভিজ (নায়িকা ববিতা) ও রাজলক্ষী প্রডাকশনস (নায়ক রাজ্জাক) উল্লেখযোগ্য। এসময় মুক্তিযুদ্ধ এবং সাহিত্যনির্ভর সুভাষ দত্তের অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২), ঋত্বিক ঘটকের তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩), আব্দুল্লাহ আল মামুনের সারেং বৌ (১৯৭৮), আজিজুর রহমানের ছুটির ঘণ্টাসহ (১৯৮৯) বেশ কিছু সিনেমা দর্শকনন্দিত হয়। পাশাপাশি বাণিজ্যনির্ভর সিনেমা কাজী জহিরের অবুঝ মন (১৯৭২), জহিরুল হকের রংবাজ (১৯৭৩), দেওয়ান নজরুলের দোস্ত-দুশমন (১৯৭৭), তোজাম্মেল হক বকুলের বেদের মেয়ে জোসনা (১৯৮৯) ব্যাপক সাড়া ফেলে।

নব্বইর দশকে এসে প্রযোজকদের মধ্যে একধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এই সময় অধিক মুনাফামুখী হতে দেখা যায় তাঁদের। কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, সিনেমা কিংবা সিনেমা হল তখন আর মানুষের একমাত্র বিনোদন মাধ্যম ছিল না। বরং সিনেমার পাশাপাশি বিনোদনের জায়গা দখল করতে থাকে স্যাটেলাইট চ্যানেল, ভিসিডি, ডিভিডি ইত্যাদি। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযোজকরা তখন ঝুঁকে পড়েন নকল কাহিনীর সিনেমা নির্মাণে। এরই ধারাবাহিকতায় নির্মিত হয় কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯২), স্বজন, রাঙা বউ (১৯৯৮), সাগরিকা (১৯৯৮) প্রভৃতি। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার সফলতার পর ঢাকা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি অনেকখানি নায়ক সালমান শাহ্‌ নির্ভর হয়ে পড়ে। সালমান অভিনীত মৌলিক ও নকল কাহিনীনির্ভর স্বপ্নের ঠিকানা, দেনমোহর, স্বপ্নের পৃথিবী, মায়ের অধিকার, অন্তরে অন্তরে প্রভৃতি সিনেমাগুলো ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়। কিন্তু হঠাৎই সালমান শাহ্‌‌‌‌‍’র মৃত্যুতে চলচ্চিত্র শিল্পে বড় রকমের সংকট দেখা দেয়। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রযোজকরা নকল কাহিনীর পাশাপাশি অল্পবিস্তর খোলামেলা দৃশ্য সম্পন্ন সিনেমা মুক্তি দিতে থাকে। রাঙা বউ, সাগরিকা এ ধারার সিনেমার ভালো উদাহরণ।

কিন্তু তারপরও যেন ঢাকা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সফলতার মুখ দেখছিল না। এ সময়ের চলচ্চিত্র নিয়ে ফাহমিদুল হক ও গীতি আরা নাসরীনের মত এরকম, ‘নব্বই দশকের শেষভাগ থেকে প্রায় এক দশক জুড়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয়ধারার চলচ্চিত্রে পর্নোগ্রাফিক দৃশ্য সংযোজনের হার উত্তরোত্তর বেড়ে চলছিল। শূন্য দশকে এসে চলচ্চিত্রে পর্নোগ্রাফিক উপাদানের উপস্থিতি আরো বৃদ্ধি পায় এবং সহিংসতার সঙ্গে সঙ্গে এটিকে ছবির বাণিজ্যিকীকরণের মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়’। পরিস্থিতি এমন হয় যে, কোনো ভাবেই এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা যাচ্ছিল না। ফলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে এফডিসিকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র।

কালো টাকার মালিকেরা চলচ্চিত্র শিল্পে সবসময় থাকলেও এরকম পরিস্থিতিতে তাদেরকে আরও বিশেষভাবে সক্রিয় দেখা যায়। তারা চলতি সংকটকে আরও উসকে দিতে থাকেন। চলচ্চিত্রের এহেন টালমাটাল অবস্থায় ‘সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রযোজনায় আসে দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। যদিও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রযোজনায় আসা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন কোনো ঘটনা নয়। এরকম ঘটনার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আমরা দেখি জার্মানিতে। সেখানে চলচ্চিত্রের যে আন্দোলন হয় তা Ôনিউ জার্মান সিনেমা’ নামে পরিচিত। এই আন্দোলন সংগঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে দু-তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের সংশ্লিষ্টতা ছিল। এছাড়া ‘মার্কিন চ্যানেল এইচবিও, যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ফোর, ফ্রান্সের কানাল প্লুস, জার্মানির জিডিএফ, জাপানেরএনএইচকে, অস্ট্রেলিয়ার এবিসি, কানাডার সিবিসি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণের সাথে যুক্ত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে এসব টেলিভিশন চ্যানেলের পরোক্ষ ভূমিকাই বেশি দেখা যায়। কোনো দেশের কোনো টেলিভিশনই সরাসরিভাবে ও নিয়মিত চলচ্চিত্র-প্রযোজনায় যুক্ত হয় নি। উল্লিখিত চ্যানেলগুলো বরং চলচ্চিত্রের স্বত্ত্ব কিনে প্রদর্শন কিংবা নির্মাণের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দিয়ে ভূমিকা রেখেছে। ভারতের দূরদর্শন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিটি চলচ্চিত্র কিনে নিতে এবং তা প্রদর্শনে বাধ্য থাকে’।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চলচ্চিত্র প্রযোজনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখছে। পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে চ্যানেল আইয়ের ইমপ্রেস টেলিফিল্ম (ইমপ্রেস টেলিফিল্মকে এখানে টিভি-প্রযোজক হিসেবে আনা হচ্ছে কারণ চ্যানেল আই ইমপ্রেস টেলিফিল্মের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান)। ইমপ্রেস ছাড়াও এটিএন বাংলাএনটিভি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছে। টিভি প্রযোজিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে কিত্তনখোলা, ব্যাচেলর, বিদ্রোহী পদ্মা, মধুমতি, গঙ্গাযাত্রা, নিরন্তর, আহা!, চন্দ্রগ্রহণ, স্বপ্নডানায়, মেড ইন বাংলাদেশ, রাক্ষুসী, গহীনে শব্দ, মনের মানুষ, আমার বন্ধু রাশেদ, গেরিলা প্রভৃতি।

ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের নামে যা হচ্ছে

‘ঘোষণাটা হয়েছিল সঠিক সময়েই। কিন্তু প্রদর্শনী শুরু হলো দশ মিনিট পর। টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে উঠলো নিবেদিত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটির নাম। শুরু হলো চলচ্চিত্র। কিন্তু বেশিক্ষণ আর দেখা হলো না। মিনিট দশেক যেতে না যেতেই একটি কোম্পানীর সৌজন্যে সংবাদ বিরতি। চলচ্চিত্র থেকে সংবাদেই মনোযোগ। সেই মনোযোগও ধরে রাখা গেলো না বেশিক্ষণ, আবারো বিজ্ঞাপন বিরতি। এবার চলচ্চিত্রের না, সংবাদের। সংবাদ শেষ হলো। তারপর আশা ছিল এই বুঝি শুরু হবে সিনেমা। সেই আশাতেও গুড়েবালি। আবারও বিজ্ঞাপন বিরতি। এবার দু-এক মিনিটের জন্য নয়, পাক্কা তেরো মিনিট। সংবাদ, বিজ্ঞাপন শেষে সব মিলিয়ে প্রায় বিশ মিনিট সময় লাগলো চলচ্চিত্র শুরু হতে। এতোক্ষণে চলচ্চিত্রের কাহিনীই ভুলে যাবার উপক্রম। কিন্তু এবার বেশ স্বস্তিতে টানা ২৪ মিনিট দেখা গেল সিনেমা। কাহিনীর ক্লাইমেক্স যখন চরমে, তখন আবার বিজ্ঞাপন... ’।

পাঠক, এটা একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের প্রথম এক ঘন্টার অভিজ্ঞতা। এভাবে পুরো সিনেমা জুড়ে চলতে থাকে বিজ্ঞাপন ও সিনেমার ইঁদুর-বেড়াল খেলা। হিসাব করলে দেখা যায়, একটি সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের জন্য বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা থাকে প্রায় ৩০টি। একবার বিরতিতে যদি প্রতিটি কোম্পানির বিজ্ঞাপন একবার করেও সমপ্রচার করা হয়, তাহলে সময় লাগবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। প্রদর্শনী শেষ করতে এরকম বিজ্ঞাপন বিরতি দেয়া হয় কমপক্ষে আট থেকে দশবার। প্রতিবার বিরতিতে গড়ে ১৩ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হলেও দুই ঘণ্টা দশ মিনিট বিজ্ঞাপন দেখতে হচ্ছে। তার মানে এক ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের সিনেমাতে শুধু বিজ্ঞাপনই সমপ্রচারিত হচ্ছে দুই ঘণ্টা দশ মিনিট ।

এখন প্রথম প্রশ্ন হলো, ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে তাহলে আমরা কী দেখছি? সিনেমা না বিজ্ঞাপন। আর সেই সিনেমায় দর্শক কতটা মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে? দ্বিতীয়ত, ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার কেন করছি? কিংবা এটা কি আসলেই ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার? ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের একটা অন্যতম উদ্দেশ্য থাকে নিজ দেশের সিনেমাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। কিন্তু আদতে তা কি হচ্ছে? সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি ছাড়াতো কেউই এসব সিনেমা দেখছে না। এর ফলে নামত টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একে ‘ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার’ বললেও কার্যত কিন্তু তা হচ্ছে না। যা হচ্ছে তা হলো, দেশের বাইরে থাকা যে লোকটি সিনেমা মুক্তির কিছু দিন পর নকল (নকল বলছি এ কারণে যে, বাংলাদেশে মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যে বেশিরভাগ সিনেমা পাইরেসি ডিভিডি বের হচ্ছে) কিংবা আসল ডিভিডির বদৌলতে সিনেমাটি দেখত; তারা এখন ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার (?) নামক নতুন ব্যবসায়িক চিন্তার বদৌলতে একটু আগেই দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু বিদেশে কাজ করতে আসা এসব মানুষ বিজ্ঞাপনের এই বিশাল সমারোহে অদৌ এসব সিনেমা দেখার আগ্রহ পায় কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ।

এখন আসুন হলে গিয়ে সিনেমা দেখার ইতিহাসটা কেমন সেদিকে একটু নজর দেই। ১৮৯৫ সালে লুমিয়ের ব্রাদার্সরা সিনেমা আবিষ্কারের পর কিন্তু বিভিন্ন স্থানে গিয়ে হলরুমেই সিনেমা প্রদর্শন করেছিলেন। আমাদের দেশেও সিনেমা প্রদর্শনের ইতিহাস একই রকম। তার মানে সিনেমা আবিষ্কার এবং প্রদর্শন প্রক্রিয়ার যান্ত্রিক কৌশল ও ইতিহাসটাই এমন। সিনেমা হলে এক ধরনের বিরতিহীনভাবে তা দেখানো হয়। দর্শক হলে গিয়ে টিকিট কাটার মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। এরপর এক ধরনের আলো-আঁধারী পরিবেশে তারা হলের মধ্যে আসন গ্রহণ করেন। সিনেমা শুরুর সাথে সাথে হল পুরোপুরি অন্ধকার করে দেয়া হয়। তখন দর্শকের সম্পূর্ণ মনোযোগ চলে যায় সিনেমার পর্দায় এবং বিরতির১০ আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে তারা পুরোপুরি সমর্পণ করেন সিনেমার মধ্যে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিশেষ ধরনের শব্দ-ব্যবস্থাপনা। দর্শককে সেই শব্দের মধ্যে এমনভাবে রাখা হয়, যেন তারা নিজেদেরকে সিনেমার অংশই ভাবতে থাকে। ফলে তারা নায়কের দুঃখে দুঃখ পায়, উচ্ছ্বসিত হয় নায়কের বিজয়ে। মাঝখানে সামান্য সময়ের জন্য বিরতি দেয়া হয়। পুনরায় শুরু হয় সিনেমা যা এবার শেষ হয় বিরতিহীনভাবে। দর্শক সিনেমার সেই রেশটি নিয়ে বের হয়। এবং হল থেকে বের হওয়ার দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত তার মধ্যে সেই রেশ কাজ করতে থাকে।

তাহলে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে যে, শিল্প মাধ্যম হিসেবে সিনেমা দেখার জন্য একটা পরিবেশের দরকার হয়। যা দর্শককে সিনেমার সাথে একাত্ম হতে সহায়তা করে। কিন্তু ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের নামে আমরা কী দেখছি; এক ঘণ্টা ত্রিশ মিনিটের সিনেমা, তিন ঘণ্টা চল্লিশ মিনিটে। সেখানে সিনেমার সেই ‘রেশ’কোথায়?

সমপ্রতি চ্যানেল আইয়ে তাদের প্রযোজিত মধুমতি সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। সিনেমা দেখার পরের দিন এ নিয়ে মন্তব্য ছাপা হয় ওই সিনেমারই নায়ক রিয়াজের। ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার সম্পর্কে রিয়াজ বলেন, ‘ঘরে বসে ছবিটি উপভোগ করেছি। তবে টিভিতে দেখে মজা নেই। কারণ কিছুক্ষণ পরপরই বিজ্ঞাপন বিরতি। মধুমতি বড় পর্দায়ও দেখার ইচ্ছা আছে। সময় সুযোগ হলে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখব’।১১

কেন এই ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার?

 সিনেমা তৈরীর পর প্রযোজক নিজে অথবা পরিবেশকের মাধ্যমে সিনেমা প্রদর্শন করতে থাকে সিনেমা হলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেশের জেলা শহরগুলোর সিনেমা হলে মুক্তি দিয়ে শুরু হয় প্রদর্শনী। তারপর ধারাবাহিকভাবে দেশের অন্যান্য প্রেক্ষাগৃহেও প্রদর্শিত হতে থাকে এ সিনেমা। এর মাধ্যমে প্রযোজক তার লগ্নিকৃত পুঁজি ফেরতের পাশাপাশি চেষ্টা চালায় মুনাফা সংগ্রহে। কখনও মুনাফা অর্জিত হয় কখনও হয় না। তারপর আবারও ঝুঁকি নিয়ে প্রযোজক সিনেমা বানায়। এভাবে চলচ্চিত্র এবং প্রযোজকের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

কিন্তু ভিন্ন অবস্থা দেখা যায়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ক্ষেত্রে। তারা লগ্নিকৃত পুঁজির বিষয়ে খুবই সাবধানী। পুঁজির ব্যাপারে তারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নন। তাই মুনাফা হোক আর না হোক পুঁজি তাদের ফেরত পেতেই হবে। আর পুঁজি ফেরতের এই নিশ্চয়তা দেয় ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। যার ফলে দর্শককে দেখতে হয় বিজ্ঞাপনের মাঝে মাঝে সিনেমা। অন্যদিকে পুঁজি ফেরত নিশ্চিত হলে তাদের আর সিনেমা প্রদর্শন নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে দেখা যায় না। ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার শেষ, তারপর দু-একটি হলে নাম সর্বস্ব মুক্তি দিয়েই তাদের ‘সিনেমা প্রেমের’ সমাপ্তি হয়। ফলে অধিকাংশ সিনেমাই থেকে যায় সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সাধারণ অনেক দর্শক জানতেই পারে না সিনেমার নাম। তাহলে যে সিনেমা হলে দেখানো হলো না, দর্শক নামই জানতে পারল না, সে ধরনের সিনেমা বানিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের কী লাভ?

এ ধরনের সিনেমার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, বেসরকারি টিভি প্রিমিয়ারের বেশিরভাগ সিনেমাতেই নিবেদক থাকছে কোনো না কোনো বহুজাতিক কোম্পানী। এই নিবেদন একসময় আমাদের চলচ্চিত্রে প্রিয়জন অর্থাৎ মা, বাবা এদের নামেই করা হতো। এখন সে দিন পাল্টে গেছে। এখন নিবেদনের জন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে মোটা অংকের টাকা গুণতে হয়। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ব্যাচেলর ইউরোকোলা, আয়না বাংলালিংক ও গেরিলা রবি ইত্যাদি এ ধরনের নিবেদনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

নিবেদন নিয়ে ঘটনার শেষ এখানেই নয়। সবচেয়ে নগ্নভাবে যেটা করা হয়, সেটা হলো সিনেমার মধ্যে কৌশলে নিবেদিত ওই পণ্যের বিজ্ঞাপন উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। এমন উদাহরণ ভুরিভুরি। ব্যাচেলর সিনেমার কথা বলা যায়। সেখানে হাসান চরিত্রটি একটি দোকানে কোমল পানীয়’র অর্ডার দিলে স্ন্যাক্সকর্মী বলে তার কাছে আছে পেপসি, কোক, সেভেন-আপ। কিন্তু হাসান এগুলো খাবে না। তিনি উত্তেজিত হয়ে দেশীয় ব্র্যান্ডের কোমল পানীয় Ôইউরো লেমন’ দিতে বলেন। বান্ধবী শায়লাকে ফোন করে বলেন, ‘...আই নো হাউ টু কিপ প্রমিজ...আমি তোমারে কথা দিছিলাম যে কোনো আমেরিকান প্রোডাক্ট ইউজ করবো না, আমি এখন ইউরো লেমন খাইতেছি ঠান্ডা’।১২

রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ, দেশাত্মবোধকে একাত্ম করে ইউরোকোলা কোম্পানীর পণ্যের প্রমোশন এবং মুনাফাকে অবিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এখানে। উদ্দেশ্য একটাই, পণ্যটিকে সিনেমার মধ্যে দেখাতেই হবে। আবার থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার এ দেখানো হয় বসুন্ধরার চেয়ে ভালো থাকার জায়গা ঢাকায় নেই। কিংবা টিভি কিনলে ট্রান্সকমের। দূরত্ব সিনেমাতেও একইভাবে উপস্থাপন করা হয় ম্যাগী নুডল্‌সকে। সিনেমার মূল শিশু চরিত্রটির খাদ্যগ্রহণের ব্যাপারে অনীহা থাকলেও সে কেবল ম্যাগী নুডল্‌স খায়।১৩

পাঠক লক্ষ্য করুন, যে সকল পণ্যকে সিনেমার মধ্যে দেখানো হচ্ছে আসলে সেসব পণ্যের মূল ভোক্তা কারা? ইউরো লেমন কিংবা ম্যাগী নুডল্‌স নিশ্চয় রিকশাওয়ালা কিংবা শ্রমজীবী মানুষের প্রাত্যহিক খাবার নয়। আর তাদের কেনার সামর্থ্যই বা কোথায়। আবার ট্রান্সকম এর টেলিভিশন কিংবা বসুন্ধরা সিটির মতো বিলাসবহুল জায়গায় ফ্ল্যাট কেনা বা ভাড়া নেয়া সাধারণ মানুষের জন্য অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাহলে প্রশ্ন জাগে সিনেমার মধ্যে এই বিজ্ঞাপন তাহলে কোন শ্রেণীর মানুষের জন্য? একটু খেয়াল করলেই বিষয়টা পরিস্কার হবে, টার্গেট ভোক্তা বা ওই শ্রেণী কিন্তু এখন আর সিনেমা হলে যায় না। কিন্তু তারা বাজার ও মুনাফামুখীতা যুগের মূল ভোক্তা। আর তাদের জন্যই এই ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার।

এক্ষেত্রে আ-আল মামুনের একটি উক্তি যুক্তিযুক্ত। তিনি বলেন, একথা আজ সর্বজন স্বীকৃত যে বিশ্বের সর্বত্র বাজার ও মুনাফামুখিতার জয়জয়কারের কারণে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বিপুল বেড়ে গেছে। কোনো পুলিশি রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে এরূপ বৈষম্যমূলক সামাজিক পরিস্থিতি টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জনগণের পক্ষে বুঝে যাওয়া সম্ভব যে তারা কী পরিস্থিতিতে বাস করছে। কিন্তু এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার উন্নততর উপায় হলো, এমন একটা রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করা যেখানে নির্বাচন থাকবে, ফর্মাল স্বাধীনতা থাকবে, যদিও পছন্দ ও বিতর্কের সীমিত পরিসরের কারণে নির্বাচনগুলো হবে বহুলাংশেই অর্থহীন। আধুনিক ‘কালচারড’ মানুষের রাজনৈতিক চৈতন্য হবে বিজ্ঞাপনদাতা, অর্থদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যে-রকম চায় সেইরকম।... তাদের চিন্তার ইস্যুগুলো কী হবে এবং কতোটুকু চিন্তা করতে হবে তার একটা ফ্রেম নির্ধারণ করে দেবে মিডিয়া ও অন্যান্য দীক্ষায়ণ প্রতিষ্ঠানগুলো।১৪ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রযোজিত সিনেমাগুলো সেই মিডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে, যারা এরকম সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়।

উদ্দেশ্য কী চলচ্চিত্র, নাকি অন্য কিছু?

শুরু করছি চলচ্চিত্র পরিচালক আবু সাইয়ীদের উদ্ধৃতি দিয়ে। বেসরকারি টিভি চ্যানেল প্রযোজিত সিনেমা নিয়ে তার বক্তব্যটি এমন- ইমপ্রেসের ২৬টি ছবির মধ্যে ৬টি ছবির মান ভালো বলা যাবে। বাকি ২০টি ছবিই অতি সাধারণ মানের। অনেক বিখ্যাত পরিচালকই তাদের সাথে কাজ করেছে, কিন্তু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র বেরিয়ে আসেনি। কারণ তারা ‘প্রযোজক’-এর ভূমিকা পালন করছে না। তাদের নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য না। তাদের মূল লক্ষ্য টিভি প্রিমিয়ার এবং সেখানে প্রচারিত বিজ্ঞাপন থেকে মুনাফা নিশ্চিত করা। তারা যা প্রযোজনা করছে, তা না শৈল্পিক, না বাণিজ্যিক। তারা প্যাকেজ ডিল কায়দায় পুরো কাজটি করে, হয়তো তারা চলচ্চিত্রের কাহিনী পর্যন্ত জানে না।১৫ আবু সাইয়ীদের এমন বক্তব্য থেকে টিভি চ্যানেলগুলোর প্রযোজিত সিনেমা সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যায়। অথচ এই চ্যানেলগুলো যখন প্রযোজনায় এসেছিল তখন কিন্তু তারা সুস্থ, ভালো ধারার চলচ্চিত্র প্রযোজনা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

তবে টিভি প্রযোজনা নিয়ে ভিন্ন কথাও আছে। চলচ্চিত্র প্রযোজনায় টিভি চ্যানেলের আগমনে নবীন-প্রবীন সবাই কমবেশি সুযোগ পাচ্ছেন বলে মন্তব্য বিশ্ববরেণ্য পরিচালক তারেক মাসুদের।১৬ এর বিপরীতে অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যটাও গুরুত্বের দাবি রাখে। তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করছে, (চ্যানেলগুলো) কিছু তো করছে, নেই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো। আমি বলি, কানা মামার চেয়ে মামা না থাকা অনেক ভালো। পঁচিশ লাখ টাকায় তো প্রডাকশনের ভাবনাতেই যাবে, তো ছবি হবে কী করে? এতে চলচ্চিত্রের বিশালত্বের মর্যাদা হানি হচ্ছে’।১৭ এর ফলে যেসব বেসরকারি টিভি চ্যানেল প্রযোজনা করছে তারা চলচ্চিত্র এবং টেলিফিল্ম কিংবা টিভি অনুষ্ঠানের বাজেটের মধ্যে পার্থক্য টানতে পারছে না। মনে রাখতে হবে চলচ্চিত্রে শুধু পুঁজি নয়, বৃহৎ পুঁজির প্রয়োজন। তাই সকল নির্মাতার আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

কিন্তু টেলিভিশনের অর্থায়নে তৈরি ছবিগুলোর নির্মাতারা যথাযোগ্য প্রস্ততির সময় ও বাজেট পাচ্ছেন না। এখন প্রশ্ন এসে যায় নির্মাতারা যদি সুবিধাই না পেলো, গোটা চলচ্চিত্রের মানের যদি উন্নতিই না হলো, তাহলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রযোজনায় কেন এই আগমন? একথা স্বীকৃত যে একটি বা দুটি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে দাঁড় করাতে হবে। সেজন্য এফডিসি এবং প্রেক্ষাগৃহের মতো প্রতিষ্ঠানকে ভালো অবস্থানে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু বেসরকারি টিভি-প্রযোজকরা কী করছে? এক্ষেত্রে তারেক মাসুদের একটি বক্তব্য যুক্তিযুক্ত। তিনি বলেছেন, ‘চলচ্চিত্রের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ। এখানেই জনগণের সাথে চলচ্চিত্রের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। এখানেই দর্শকরা প্রতিটি টিকিটের শতকরা ৬০ ভাগ শুল্ক কর দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। ...দর্শককে যদি সিনেমা হলেই না আনা গেল, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি যদি চাঙ্গা না হলো, তাহলে সেলুলয়েড শুটিং করা কেন? বিজ্ঞাপনের টাকায় টিভি প্রিমিয়ারের মাধ্যমে বিনিয়োগ তুলে ফেলে একটি বা দুটি হলে প্রতীকী মুক্তি দিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের আরাধ্য মুক্তি সম্ভব নয়’।১৮ অথচ বেসরকারি টেলিভিশনগুলো ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের নামে তাই করছে।

পাঠক, একটা পরিসংখ্যান দিলে বিষয়টা পরিষ্কার হবে। ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে, চলচ্চিত্রের রাজস্ব থেকে বাংলাদেশ সরকারের আয় ১৮ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। যেখানে শুধুমাত্র ঢাকা জেলা থেকেই আয় ৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা।১৯ সে বছর সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল ৭৪টি।২০ দশ বছর পর, ২০০১-০২ অর্থ বছরে ঠিক একই পরিমাণ সিনেমা মুক্তি পেয়ে রাজস্ব অর্জিত হয়েছিল আট কোটি চল্লিশ লাখ টাকা। মাত্র পাঁচ বছর পরের অবস্থা আরো ভয়াবহ। ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে চলচ্চিত্র মুক্তি পেল ১০০টি কিন্তু রাজস্ব কমে দাঁড়াল ছয় কোটি আটত্রিশ লক্ষতে।

আমরা কিন্তু মোটেও বলছি না যে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো প্রযোজনায় এসে রাজস্ব কমে গেছে। চলচ্চিত্রের রাজস্ব কমার অনেকগুলো কারণের মধ্যে হয়ত এটিও একটি কারণ। কেননা সিনেমা মুক্তির সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু সেই সিনেমা দেখানো হয় নি কোনো হলে। ফলে সরকার রাজস্ব পায় নি। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য এ মুহূর্তে প্রথম কাজ হচ্ছে দর্শককে সিনেমা হলে ফিরে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের নামে যা হচ্ছে তার কিন্তু উল্টোটাই করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতীয় উপমহাদেশে প্রযোজনা খাতে একটা পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। তখন নব্য ধনীরা আসতে শুরু করেছিল চলচ্চিত্র প্রযোজনায়। তাদের চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসার পেছনে কারণ ছিল কালো টাকাকে সাদা করা, মুনাফা এবং সুনাম অর্জন করা।২১একবিংশ শতাব্দিতে এসে বাংলাদেশের প্রযোজনা খাতেও এক ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়, পরিবর্তনটা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রযোজনায় আগমন। কিন্তু তাদের আগমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারে নি চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কেনো তাদের প্রযোজনায় আসা, বাংলা সিনেমার উন্নয়ন নাকি অন্য কিছু?

কৌশল যখন অশ্লীলতা

সামপ্রতিক ছায়াছবি বিষয়ক আলোচনা ও লেখায় শুধু ‘অশ্লীলতা’ শব্দটি দিয়ে পর্নো উপাদানের সমাবেশকে বোঝানো হয়ে থাকে।২২ এ ধরনের উপাদানের মিশ্রণ শুরু হয় মূলত নব্বই এর দশক থেকে। যা আমরা আগে আলোচনা করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় শূণ্যের দশকে কাটপিস এবং পর্নোগ্রাফির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় বলে অশ্লীলতা বিরোধী আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। তাদের আরেকটি বড় অভিযোগ হলো, মধ্যবিত্ত নাকি অশ্লীলতার তোপেই প্রেক্ষাগৃহ ছেড়েছে। যে কারণে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এমনকি চলচ্চিত্র শিল্পের সুস্থ ধারার মানুষেরা বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন।

Ôসুস্থ’ এবং Ôশ্লীল’ চলচ্চিত্র পিপাসু সকল সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী শ্রেণী এবং চলচ্চিত্র শিল্পের সুস্থ ধারার মানুষেরা গণমাধ্যমে চেঁচিয়ে বলেছেন, মধ্যবিত্ত প্রেক্ষাগৃহে ফিরছে না ‘সুস্থ’ ও ‘শ্লীল’ চলচ্চিত্র চাই। চলচ্চিত্র গবেষক লোটে হুক বলছেন অন্য কথা। তার বয়ান এরকম- ‘এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, যারা বলে যে মধ্যবিত্ত হলে যায় না, তারা আসলে কে? আমার ধারণা, তারা হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপরের দিককার মানুষ। তারা সংখ্যায় খুব বেশি নয়। শুধু তারা হলে যাচ্ছে না বলেই সারা বাংলাদেশের মানুষ হলে যাচ্ছে না এটা কি ঠিক? নিম্ন মধ্যবিত্ত আর খেটে খাওয়া পরিশ্রমী মানুষ, এরা হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অংশ’।২৩

তাহলে অশ্লীলতা নিয়ে এতো কথা কেন? তাহলে কেনইবা এই হলবিমুখীনতা? বিষয়টি একটু অন্যভাবে দেখা যাক। মধ্যবিত্তসহ কোন শ্রেণীর মানুষই বিশ্বায়নের বাইরে নয়। প্রযুক্তির বিকাশে সবার ঘরে ঘরে আজ পৌঁছে গেছে টেলিভিশন। সেই সাথে স্যাটেলাইট চ্যানেল। প্রচারিত হচ্ছে বলিউড, হলিউডের অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ছোট পোশাকে উদ্যম নৃত্য (যাকে হাল আমলে ‘আইটেম সঙ্‌’ বলা হচ্ছে), সহিংসতা, খোলামেলা দৃশ্য। যা কিন্তু মধ্যবিত্ত ড্রইং রুমে বসেই দেখছে। তাহলে মধ্যবিত্ত যখন ঘরে বসে এসব দেখে কিংবা শয়ন কক্ষে বসে পর্নোগ্রাফি দেখে তখন তাদের শ্লীলতা কোথায় থাকে? নাকি অশ্লীলতার ধোঁয়া তুলে মধ্যবিত্তকে ঘরে ফেরানোই মূল লক্ষ্য। কারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণীই তো আসল ভোক্তা। এ জন্যই কি তাহলে টিভি-প্রযোজিত ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের চলচ্চিত্রকে ‘সুস্থ’ এবং ‘শ্লীল’ আখ্যা দেয়া? কিন্তু এখানেও প্রশ্ন ওঠে, টিভি-প্রযোজিত চলচ্চিত্রগুলো কতটা শ্লীল?

টিভি-প্রযোজিত সিনেমা ব্যাচেলর-এর  সমালোচনা করতে গিয়ে আ-আল মামুন বলেন, মানব শরীরের তিনভাগ জলীয় পদার্থের মতোই ব্যাচেলর- রয়েছে তিনভাগ যৌনতা। এই যৌনতার নির্মাণ যতটা না শরীরকেন্দ্রিক তারচে অনেক বেশি ভাষাকেন্দ্রিক- যাকে আমরা ‘সিউডো সেক্স’ বলি সেইরকম। বিভিন্ন সিকোয়েন্সে একটু একটু করে সুড়সুড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই যৌনতার নির্মাণ ও পরিবেশন বিশেষ গোষ্ঠীভূক্ত দর্শকের জন্য, যারা হলিউড-বলিউড সিনেমা দেখে অভ্যস্ত, বিনোদন ও ভোগের যাবতীয় উপকরণ যাদের হাতের মুঠোয়।২৪

ব্যাচেলর সিনেমায় এ ধরনের যৌনতা দেখাতে আ-আল মামুন সিনেমার কিছু সংলাপকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে আসেন।ব্যাচেলর সিনেমার দুটি চরিত্র ফাহিম ও সাথী সেল ফোনে কথা বলছে। তাদের কথোপকথনের ‘সংলাপগুলো’ এ রকম-

 

ফাহিম: ...ইস তুমি যদি এখানে থাকতে...।

সাথী: ওরেব্বাবা।

ফাহিম: এই শোনোনা, তোমাকেনা আমার কবুতর কবুতর মনে হয়।

সাথী: কী! হী. হী.।

ফাহিম: এখন থেকে তোমাকে আমি পায়রা বলবো, পায়রা বানু, পায়রা বানু, পায়রা বানু, আমার কিচ্ছু ভালো লাগে না...।

সাথী: ওরে আমার গুডি গুডি বাবু, একা একা লাগে। বিয়ে করে ফেল আর একা একা লাগবে না।

ফাহিম: এই একটা কথা বলি, তুমি আমাকে বিয়ে করে ফেল, অনেক মজা হবে।

সাথী: ওহ মাই গড! ত্রিশ দিন একটা মানুষের সাথে একসাথে থাকা, এবসার্ড! এটা আমার কাছে সিকনেস মনে হয়...রিলেশনসিপে আমার আস্থা নাই।

ফাহিম: ঠিক আছে, তাহলে আরেকটা প্রপোজল, যতদিন না আমি আরেকটা পায়রা বানু খুঁজে পাই অর ইউ চেঞ্জ উয়র             মাইন্ড রিগার্ডিং রিলেশনসিপ আমরা প্রক্সি দেব।

সাথী: মানে।

ফাহিম: মানে প্রক্সি লাভ, আমরা প্রেমিক প্রেমিকার মতো আচরণ করবো, রেসপনসিবিলিটি শেয়ার করবো, তুমি হবে আমার প্রক্সি গার্ল আমি হবো তোমার প্রক্সি বয়।

সাথী: মজা তো।

 

আ-আল মামুন মনে করেন এ রকম সংলাপ বলার পর ব্যাচেলর সিনেমার যৌনতা নিয়ে মন্তব্য নিষপ্রয়োজন। এছাড়া ব্যাচেলরে সাথীর সাথে অপরিচিত ব্যক্তির ফোনে আলাপচারিতাকে মামুন ‘অশ্লীলতার’ দায়ে অভিযুক্ত বাংলা সিনেমায় হঠাৎ উদয় হওয়া ভারী দেহের স্বল্পবসন নারী ও নরদের আকস্মিক ‘বুকে আমার আগুন জ্বলে যৌবন ভরা অঙ্গে/ও ছুড়ি তোর গাছে পাকে ...’ জাতীয় নৃত্য-গীতের সাথে তুলনা করেছেন।

এফডিসিকেন্দ্রিক নির্মিত চলচ্চিত্রে আমরা যে স্থুল যৌনতা দেখি তাকে আমার ‘অশ্লীলতা’ বলছি। কিন্তু ‘কালচারড’ আধুনিক মানুষেরা যে ফ্রেমের মধ্যে যৌনতাকে উপভোগ করে তাকে ‘অশ্লীলতা’ বলতেই আমাদের যতো আপত্তি। তার মানে অশ্লীলতাই মূল কথা নয় বরং একটি কৌশল মাত্র। অশ্লীলতা বিরোধী প্রপাগান্ডা এবং এফডিসির রুগ্ন অবস্থা এই কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ‘ভোক্তা মধ্যবিত্ত’ শ্রেণীকে ‘সুস্থ’ চলচ্চিত্র সম্পর্কে সচেতন করেছে এবং সিনেমা হলের পরিবর্তে ঘরে বসে টিভি দেখতে বাধ্য করেছে- এটাই তো কৌশল।

এক কথায় যদি বলতে বলা হয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা কী? আমি বলবো ‘কোমা’য় রয়েছে। সেই ‘কোমা’ থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে সুস্থ করতে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় এগিয়ে আসে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। এবং দাবি করে তারা ‘সুস্থ’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে। কিন্তু তাদের ‘সুস্থ’ চলচ্চিত্র নির্মাণের দাবি এবং সেইসাথে সিনেমার মাঝে পণ্যের বিজ্ঞাপন করা, ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের নামে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা, ‘শ্লীল’ সিনেমার নামে ‘সিউডো সেক্স’ এর ব্যবহার আমাদের মনে প্রশ্ন্‌ তোলে। তাদের এ আচরণ এমন ধারণাকেই প্রতিষ্ঠিত করে যে- তাদের সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাণের দাবি অজুহাত মাত্র, উদ্দেশ্য ব্যবসা ও চলচ্চিত্র জগতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তৈরি করা যায় জনরুচি। তাছাড়া বাংলাদেশের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি এবং জনরুচির নিবিড় সম্পর্কের কথা কারো অজানা নয়। সেক্ষেত্রে বেসরকারি টেলিভিশন প্রযোজিত চলচ্চিত্র এবং প্রযোজকরা কোন ধরনের জনরুচি তৈরি করতে চাইছে সেটাই আমাদের প্রশ্ন। আশা করি, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে© এখন থেকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রযোজকরাও এসব প্রশ্ন নিয়ে ভাববেন।

লেখক: শুভ কর্মকার রোকনুজ্জামান রাকিব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পড়াশুনার পাশাপাশি শুভ কর্মকার মঞ্চনাটকে নিয়মিত কাজ করছেন

 

তথ্যসূত্র

১. ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০০৯,’ প্রথম-আলো; ১ এপ্রিল ২০১০।

২. Rajadhyaksha, Ashish and Willeman, Paul (1994: 17 & 195). Encyclopedia of Indian Cinema. London British Film Institute.

৩. কাদের, মীর্জা তারেকুল (১৯৯৩: ৩৮৮); বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প; বাংলা একাডেমী; ঢাকা।

৪. Cinema of Bangladesh. Retrieved from: http://en.wikipedia.org/wiki/Cinema_of_Bangladesh/18-05-2011

৫. নাসরীন, গীতি আরা এবং হক, ফাহমিদুল (২০০৮: ৬৯); বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প, সংকটে জনসংস্কৃতি; শ্রাবণ প্রকাশনী, ঢাকা।

৬. মাসুদ, তারেক (২০০৫); বাংলাদেশের চলচ্চিত্র: নির্মাণের সঙ্কট; যোগাযোগ; সংখ্যা: ০৭, ফেব্রুয়ারি ২০০৫, পৃ- ১৮।

৭. প্রাগুক্ত, নাসরীন এবং হক (২০০৮: ৭৮-৭৯)।

৮. ‘ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার’ (World Premiere) হলো সিনেমা বা কোনো অনুষ্ঠানের প্রথম প্রদর্শনী যা সারা বিশ্বের মানুষকে উদ্দেশ্য করে হয়। এক্ষেত্রে সারা বিশ্বের মানুষকে উদ্দেশ্য করে কোনো অনুষ্ঠান দেখানোর অন্যতম মাধ্যম স্যাটেলাইট চ্যানেল। তাই স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রথম প্রদর্শিত সিনেমার শো কে ‘ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৯. আগের কাহিনীচিত্রগুলো সাধারণত আড়াই ঘন্টা থেকে তিন ঘন্টার হলেও বর্তমানে তা দেড় থেকে দুই ঘন্টায় কমে এসেছে। এক্ষেত্রে বিরতি হতো দেড় ঘন্টার মাথায়।

১০. দর্শককে স্বস্তি দেয়ার জন্য সিনেমা নির্মাণের সময়ই বিরতির বিষয়টি ভাবা হয়। তাই সিনেমার মাঝেই বিরতি শব্দটির প্রবেশ ঘটানো হয়ে থাকে। এ সময়ে দর্শক প্রাকৃতিক কাজসহ হালকা নাস্তা সেরে নেন। সাধারণত এ ধরনের বিরতি হয় দশ মিনিটের।

১১. ‘বাণিজ্যিক ছবিতে আর নয়’; সমকাল; ১৬ এপ্রিল ২০১১।

১২. মামুন, আ-আল (২০০৭); বাংলাসিনেমা উদ্ধারকল্প: চন্দ্রকথা, ব্যাচেলরদের পোয়াবারো; যোগাযোগ; সংখ্যা:০৮, ফেব্রুয়ারি ২০০৭, পৃ-১৪৩।

১৩. হক, ফাহমিদুল (২০০৫), সঙ্কট সম্ভাবনায় বাংলা সিনেমা:উত্তরণের উপায় অনুসন্ধান, যোগাযোগ; সংখ্যা:০৭; ফেব্রুয়ারি ২০০৫, পৃ-৩১।

১৪. প্রাগুক্ত, মামুন (২০০৭: ১৪২)।

১৫. প্রাগুক্ত, নাসরীন এবং হক (২০০৮:৮১)

১৬. প্রাগুক্ত, মাসুদ (২০০৫;১৮)।

১৭. চট্টোপাধ্যায়, জয়ন্ত (২০১১); মিডিয়াওয়াচ; ১০ জানুয়ারি ২০১১, সংখ্যা-০৩, পৃ-১৭।

১৮. মাসুদ, তারেক (২০০৬); টেলিভিশন চ্যানেলের চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ: একটি পর্যালোচনা (সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধ); ২য় জাতীয় চলচ্চিত্র সম্মেলন, বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ, ঢাকা।

১৯. প্রাগুক্ত, কাদের (১৯৯৩: ৪০৯)।

২০. http://www.fdc.gov.bd/fdc/filmlist.asp

২১. প্রাগুক্ত, কাদের (১৯৯৩: ৩৮৭)।

২২. প্রাগুক্ত, নাসরীন এবং হক (২০০৮: ৬৮)।

২৩. ছয়টা গান+দশটা মারপিট+একটা প্রেম= বাংলা ছবি? প্রথম আলো; ২৭ আগস্ট ২০০৯।

২৪. প্রাগুক্ত, মামুন (২০০৭: ১৪০)।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন