Magic Lanthon

               

ফারুক ইমন ও হাসানুর কবীর

প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

‘গুপী বাঘা’ ত্রয়ীর সমকালীন পাঠ

ফারুক ইমন ও হাসানুর কবীর


সত্যজিৎ রায়কে উপমহাদেশের বাংলা সিনেমার অন্যতম দিকপাল বলা হয়। অনেকে আবার তাকে ‘মানবীয় আবেগের দলিল’ এর রচয়িতাও মনে করেন। বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান যেমন অনস্বীকারয, তেমনি চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে সত্যজিৎ এর অবদান স্বীকার না করে উপায় নেই। তার পথের পাঁচালী বাংলা চলচ্চিত্রে এখনো অমূল্য সম্পদ হিসেবে গৃহীত। শুধু পথের পাঁচালীই নয়, সত্যজিৎ এর বেশিরভাগ চলচ্চিত্র তার সময়কে অতিক্রম করে কালের সাক্ষী হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। গুপী গাইন বাঘা বাইন (১৯৬৯) ও হীরক রাজার দেশে (১৯৮০) তার তেমনি দু’টি চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি রূপকথার আড়ালে যে সামন্ততান্ত্রিক সমাজচিত্র এঁকেছিলেন, সেই চিত্র আজ এই একবিংশ শতাব্দিতে এসেও আমাদের সমাজে বিদ্যমান। যদিও সময়ের ব্যবধানে তার বাহ্যিক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আপাত বাহ্যিক ওই পরিবর্তনকে বাদ দিয়ে আমরা সেই সমাজের সাথে আজকের সমাজের সাদৃশ্য এই লেখায় খোঁজার চেষ্টা করেছি। ও, আর একটি কথা- সত্যজিতের একমাত্র ছেলে বাবার চলচ্চিত্রের সিক্যুয়ালে ১৯৯১ সালে নির্মাণ করেন গুপী বাঘা ফিরে এলো। আমরা এ চলচ্চিত্রটিকেও এ আলোচনায় রাখার চেষ্টা করেছি। তবে মূল আলোচনা হীরক রাজার দেশকে ঘিরেই এগিয়েছে।

বাঁশঝাড় থেকে আনন্দনগর 

রাজবাড়ীর সামনে গান গাওয়ার অপরাধে গ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়ে জঙ্গলে আসেন গুপী। পরিচয় হয় বাঘার সাথে। বাঘাও ঢোল বাজানোর অপরাধে গ্রাম থেকে বিতাড়িত হয়ে এসেছেন জঙ্গলে। দিনের শেষে গুপী-বাঘা গান গাইতে শুরু করে। সন্ধ্যা নামে, গানের সুরে উপস্থিত হয় জঙ্গলের ভূতেরা। ভূতের রাজা গুপী-বাঘার গানে খুশি হয়। এবং তাদেরকে তিনটি বর চাইতে বলে। ইচ্ছে মতো খাওয়া-পরা, দেশে-বিদেশে ঘুরতে পারা এবং গান-বাজনা করে মানুষকে খুশি করা-  এই তিনটি বর এর কথা জানান তারা। ভূতের রাজা তাদের ইচ্ছে পূরণ করে। তাদেরকে দেয়া হয় দুই জোড়া বিশেষ জুতো; শেখানো হয় বর ব্যবহারের নিয়ম।

পরদিন সকালে গানের বাজির খবর শুনে গুপী-বাঘা জঙ্গল থেকে যায় সুন্ডি রাজ্যে। সেখানে গান গেয়ে রাজাকে মুগ্ধ করে দু’জনেই রাজসভার গায়ক হন। এরপর তারা যায় হল্লা রাজ্যে। সেখানে তারা তেলেস্‌মাতি দিয়ে দুষ্টু মন্ত্রীর ষড়যন্ত্রের বশে থাকা রাজাকে মুক্ত করে। এরপর একজন সুন্ডির এবং আরেকজন হল্লার রাজার মেয়েকে বিয়ে করেন।

হীরক রাজার দেশে ভূতের রাজার বর এর শক্তিতে গুপী-বাঘা সেদেশের রাজার হাতে জিম্মি জনগণকে মুক্ত করেন; রাজাকে সাধারণের কাতারে নামিয়ে আনেন। তবে এ কাজটি তাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ধুরন্ধর বিজ্ঞানীর মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র, পা-চাটা মন্ত্রীপরিষদ সবাইকে, সবকিছুকে পরাস্ত করে তারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাধারণের শাসন। তৃতীয় কাহিনীতে তারা যান আনন্দনগরে। সেখানে তারা লোভে পড়ে এক দুষ্টু তান্ত্রিকের যোগসাজশে কিছু অন্যায় করেন, পরে আবার ভুলও বুঝতে পারেন। শেষে নিজেদের বুদ্ধি এবং দৈব ক্ষমতা দিয়ে ত্বরান্বিত করেন তান্ত্রিককে বিনাশের পথ।

বাংলার কৃষকের উপাখ্যান, অস্তিত্বের সংকটে শ্রম অধিকার

পাঠক চলুন, সুন্ডি রাজ্যে ঘুরে আসি; কয়েকজন কৃষককে ধরে নেওয়া হচ্ছে রাজার কাছে। খাজনা বাকি রাখা তাদের অপরাধ। রাজা তাদের কোনো কথা না শুনেই গর্দান নিতে নির্দেশ দেন। একই দৃশ্য আমরা দেখি হীরক রাজার দেশে। সেখানে কৃষক ফজল মিয়া খাজনা মওকুফের আবেদন জানাতে রাজার কাছে যায়। রাজার পক্ষে কৃষকের আবেদনের জবাব দেয় সভাকবি-

‘বাকি রাখা খাজনা

মোটে ভাল কাজ না,

ভর পেট নাও খাই

রাজকর দেওয়া চাই’

কৃষক মিনতি সহকারে জানায়, সে ইচ্ছে করে খাজনা বাকি রাখে নি। ফসল ভাল না হওয়ায় ঋণের টাকা শোধ করার পর খাজনা দেওয়া সম্ভব হয় নি। রাজা তার এই সমস্যার কথা বিবেচনা না করেই কৃষকের মস্তিষ্ক প্রক্ষালনের নির্দেশ দেন। মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র থেকে বেরিয়ে কৃষকও বলতে থাকে-

‘বাকি রাখা খাজনা

মোটে ভাল কাজ না’

পাঠক, এটি শত বছর আগের সামন্ততান্ত্রিক সমাজের চিত্র। তখন এভাবেই শোষিত হতো কৃষক। আজ একবিংশ শতাব্দিতে এসে সেই সামন্ততান্ত্রিক সমাজ আর নেই ঠিকই, কিন্তু কৃষককে শোষণ করার প্রক্রিয়াটি রয়ে গেছে আগের মতোই। আজও বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে। মাঠে সোনার ফসল ফলায়, খাদ্যের যোগান দেয়। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের অবস্থা ওই ফজল মিয়ার মতো। দারিদ্রতা তাদের পিছু ছাড়ে না। ঋণের বোঝা নিয়ে ঘুরতে হয় সারা জীবন। এই সভ্যযুগে এসেও আমরা দেখি বরিশালের রিক্সাচালক ইউনুস আলীকে এনজিও’র ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে। হীরকের দেশে ফজল মিয়াদের শোষণ করত হীরকের রাজা। আর এখনকার ফজল মিয়াদের শোষণ করে সরকার, এনজিও এবং ব্যাংক। এদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কৃষক জমিতে ভাল ফসল ফলালেও লাভ আর হয় না। কৃষকের সোনালি হাসি বাজারে যেতে না যেতেই মলিন হয়ে যায় ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায়।

বাধ্য হয়ে কৃষককে কম দামে বিক্রি করতে হয় ফসল। কারণ রক্ত মাটি করা সেই ফসল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই কৃষকের। অন্যদিকে ফসল বিক্রি করেই তাকে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে হয়। আর শোধ করতে না পারলে নীলফামারীর মনোরঞ্জন, জয়পুরহাটের আজিজারের মতো মাত্র আট-দশ হাজার টাকার ঋণে যেতে হয় জেলে। ফলে মূল্য যাই হোক, কৃষক ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। আর কৃষকের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কম দামে ফসল ক্রয় করে  আড়তদাররা। পুঁজি থাকায় তারা সেই ফসল সংরক্ষণের ভাল ব্যবস্থাও করে। আবার সুযোগ বুঝে কৃষকের সেই ফসল তারই কাছে বিক্রি করে চড়া দামে। বর্গাচাষী তার সামান্য আলু হিমাগারে রাখতে গেলে বড় ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে জায়গা পায় না; ক্ষোভে-দুঃখে মৌসুমী দামে বিক্রি করে দেয়। তার সেই আলুই সে পরে বীজ হিসেবে কেনে বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি দামে।

শুধু কৃষক নয়; হীরকের রাজ্যে আমরা হীরাখনির এক শ্রমিককে দেখি শুকনো ঘামে ভেজা দেহে জলজল চোখে রাজার সামনে জোড় হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে। কাজে ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে তাকে ধরে আনা হয়েছে। শ্রমিকটি জানায়, কাজটি অনেক পরিশ্রমের। তাই বিশ্রাম নিতে হয়। আর সে যে বেতন পায় তা দিয়ে তার দু’বেলা ভরপেট খাওয়াও জোটে না। তখন শ্রমিকের উদ্দেশে রাজা বলে-

‘অনাহারে নাই খেদ

বেশী খেলে বাড়ে মেদ’

হীরাখনির ওই শ্রমিকদের ছায়া বর্তমানের হাজারো শ্রমিকের মধ্যে আমরা দেখতে পাই। যারা নানাভাবে হীরারখনির শ্রমিকদের মতোই শোষিত হয়ে আসছে। সবার আগে আমরা তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কথাই বলতে পারি। তারা দিনভর কাজ করে মধ্যরাত অবধি ওভারটাইম করে। কিন্তু তারপরও মাস শেষে পাওয়া সেই পারিশ্রমিক দিয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তা পায় না। আবার ন্যায্য পারিশ্রমিক চাইতে গেলে রাজপথে পুলিশের লাথি খেতে হয়, জেলে যেতে হয়, হারাতে হয় চাকরি।

হীরকের দেশে দেখি, শ্রমিকরা কাজে ফাঁকি দিচ্ছে কি না, সময়মতো কাজে আসছে কি না- তা নজরদারি করতে পেয়াদা রাখা হয়েছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এই সময়ে এসে পেয়াদার জায়গা দখল করে নিয়েছে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা। অনেকটা চার্লি চ্যাপলিনের মডার্ন টাইমস চলচ্চিত্রের মতো। সেখানে যন্ত্রের সহায়তা নিয়ে মালিক তার কারখানার শ্রমিকদের নজরদারি করে টয়লেট পর্যন্ত। টয়লেটে গিয়ে আনমনে একটু বেশি সময় ধরে চিন্তা করলে, সামনের বিশাল মনিটরে হাজির হন মালিক; ধমক দেন, চাকরি খাওয়ার হুমকি দেন। একইভাবে পোশাক শ্রমিকরা যখন দুপুরের খাবার খেতে কারখানার ছাদে যায় সেখানে তাদের নজরদারি করতে থাকে সিসি ক্যামেরা। একটু দেরি করে কাজে ঢুকলে বেতন কাটা হয়, চালানো হয় নির্যাতন। অনেক ক্ষেত্রে তা কাউকে কাউকে মৃত্যুর মুখে পর্যন্ত ঠেলে দেয়। এখন প্রশ্ন হলো, যে শ্রমিকদের শ্রমে ব্যবসার মুনাফা হয়, যে শ্রমিকের রক্তের টাকায় হীরকের রাজার মতো পোশাক শিল্পের মালিকরা গাড়ি-বাড়ি করেন; সেই শ্রমিকরাই হীরকের রাজার মতো বর্তমানের রাজাদের কাছেও নিগৃহীত। পরিবর্তন কেবল হীরার খনির জায়গায় তৈরি পোশাক কারখানা!

শুধু গার্মেন্টস শ্রমিক নয়, অন্যান্য পেশার হাজারো শ্রমিককে আমরা দেখি তাদের আর্থিক নিরাপত্তা দূরে থাক, মাথাগোঁজার জায়গাটুকুও নেই। কঠোর পরিশ্রমের পর দিনশেষে রাত কাটাতে হয় ফুটপাতে, রেলস্টেশনে অথবা পার্কে। নিরাপত্তাহীনতায় কাজ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এসব শ্রমিকের পরিবারকে প্রাপ্য, এমনকি অনেক সময় ন্যূনতম ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয় না। আর পঙ্গু হলে সুঠাম দেহের ওই শ্রমিকের ভিক্ষা করা ছাড়া কোনো পথ থাকে না। সবকিছু মিলিয়ে, হাজারো শ্রমিক দেশে-বিদেশে শরীর নিংড়ে ‘হীরক রাজাদের’ জৌলুস বাড়ায়, আর তার বিনিময়ে শ্রমিকদের দেওয়া হয় আজীবন শ্রমিক থাকার গ্যারান্টি।

পাঠক, এবার ফিরে যাই গুপী গাইন বাঘা বাইন এ। সেখানে আমরা মন্ত্রীকে দেখি মুরগির রোস্ট খেতে। তার টেবিলে সাজানো হরেক রকমের ফলমূলসহ বিলাসী সব খাবার। আর এর বিপরীতে প্রজাদের খেতে দেখা যায় অখাদ্য তরল। যা দিয়ে কেবল ফুসফুসের স্বাভাবিক ক্রিয়াটুকু সচল রাখা যায়। আসলে, প্রজারা কী খেলো না খেলো, তাতে রাজাদের কিছুই যায় আসে না। কিন্তু রাজা বা মালিকপক্ষ একবারও ভেবে দেখে না তাদের এই খাবারের যোগানদাতা কারা। রোজার মাসে ৩০ প্রকারের বাহারি খাবার দিয়ে ইফতার করলেও দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি রোধ করতে সাধারণ জনগণকে কম খাওয়ার পরামর্শ দেন বাণিজ্য মন্ত্রী। অনেকটা মাথা ব্যাথার জন্য মাথা কেটে ফেলার পরামর্শের মতো। একইভাবে সাধারণ প্রজাদের উদ্দেশে হীরকের রাজার পরামর্শটি এমন- ‘অনাহারে নাহি খেদ, বেশি খেলে বাড়ে মেদ।’

বাউল চরণ দাশ, একালের খাঁচায় ভরা স্বপ্নের পাখি

হীরক রাজার প্রশ্ন, নাম কী? লোকটির উত্তর, চরণ দাশ। কী করা হয়?  গান, আর গানকে প্রাণের মতোই ভালোবাসি। গাও তো তোমার গান। দোতরা বাজিয়ে গান ধরে চরণ দাশ-

‘আমি কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়

আমি যেই দিকেতে চাই

দেখে অবাক বনে যাই

কোনো অর্থ নাহি খোঁজে আমি পাইরে’

রাজা বাহবা দেন গানের প্রশংসা করেন।

‘দেখ ভাল যে জন রইল ভাঙ্গা ঘরে

মন্দ যে সে সিংহাসনে চড়ে...।’

রাজার ভ্রু কুঞ্চিত, মনে মনে ক্ষিপ্ত।

‘সোনার ফসল ফলায় যে তার

দুই বেলা জোটে না আহার

হীরার খনির শ্রমিক হয়ে

কানা কড়ি নাই।’

রাজা চিৎকার দিয়ে ওঠেন, বন্ধ করো এ গান। রাজার আদেশে বাউলের মুখ বেঁধে জঙ্গলে ফেলে আসা হয়। যুগে যুগে ‘হীরক রাজারা’ শিল্প-সংস্কৃতির বড় সমঝদার। তারা শিল্পের পৃষ্ঠপোষক হতে রাজি, শিল্পীদের সাথে হাসি মুখে ছবি তুলতে রাজি। কিন্তু একটি কথা; তাদের বিরুদ্ধে যায়- এমন কথা মুখেও এনো না। আনলেই বিধি-বাম। আনলেই তোমার অবস্থা চরণ দাশের মতো। এরা সবসময় রসালো, মজাদার, নির্মল সাহিত্যের প্রশংসা করে কিন্তু একটা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ তাদের মহা-আপত্তি, সুকান্তদের নিয়ে তাদের বড় মাথাব্যাথা আর সুমনের মতো গান লিখলে তুমি দেশদ্রোহী। সামাজিক যোগাযোগ সাইটে সারা দিন গল্প করলে কিছু যায় আসে না। কিন্তু ছাত্রদের উপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে তা ব্যবহার করলেই আটক করা হয় আসিফ মহিউদ্দীনদের। 

মধু মিলন চলচ্চিত্র নিয়ে সমস্যা নেই, কিন্তু একটি জীবন থেকে নেওয়া তৈরী করলে সমস্যা। কারণ সেখানে স্বৈরশাসনের প্রতিবাদ করা হয়। আবার মানুষের অধিকার নিয়ে গান করতে যেয়ে নচিকেতাদের জেলে যেতে হয়। মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার ‘অপরাধে’ অরুন্ধতীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। মানুষের মুক্তির কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন আজাদের মতো বিদ্বানকে অকালে হারিয়ে যেতে হয়। জাফর পানাহিদের চলচ্চিত্র যখন দেশে-বিদেশে নন্দিত হয়, তখন তাকে পঁচতে হয় জেলে। স্বপ্নের হাতে হাতকড়া পড়িয়ে প্রতিবাদী পাখিগুলোকে চোখ বেঁধে খাঁচায় ভরতে সর্বদা মরিয়া ওরা; যেমনটি করত হীরক রাজা।

নয়া রূপে মস্তিষ্ক প্রক্ষালন

হীরকের রাজা এক বিজ্ঞানীকে দিয়ে একটি বিশেষ ঘর বানিয়েছেন। নাম যন্তর-মন্তর ঘর। এই ঘরে পুরে দিয়ে অবাধ্য প্রজাদের মস্তিষ্ক প্রক্ষালনের মাধ্যমে বশে আনা হয়। মস্তিষ্ক প্রক্ষালনের পর তাদের যা শিখিয়ে দেওয়া হয়, তারা তাই বলতে থাকেন। মস্তিষ্ক প্রক্ষলিত ওই মানুষটিকে দিয়ে তখন যা ইচ্ছে তাই করাতে পারেন রাজা। অনেকটা মনোজগতে উপনিবেশের মত। হীরকের রাজার মতো আজকের ‘রাজা’রাও তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে চান। মিশেল ফুকো অবশ্য এটাকে একটু অন্যভাবে স্বশাসন বলেছেন। আর গ্রামসির ভাষায় এটাই হেজিমনি শাসক সচেষ্ট থাকে তার মতো করে সবকিছু টিকে রাখতে। শাসকের আড়ালে যারা থাকে সেই পুঁজিপতিদের লক্ষ্য থাকে পণ্যনির্ভর সমাজের দিকে। এজন্য তাদেরও প্রয়োজন হয় যন্তর-মন্তর ঘরের। আর সেই যন্তর-মন্তর ঘর এখন গণমাধ্যম। সেখানে গ্রামসির বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত হন; কথা বলেন ‘তাদের’ পক্ষে, যারা এসব যন্তর-মন্তর ঘরের মালিক কিংবা এগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন।

আবার এসব যন্তর-মন্তর ঘর আমাদের মধ্যে পণ্য ভোগের বাসনা তৈরি করে। এটা নানাভাবে হয়। একপর্যায়ে আমরা আমাদের নিজস্ব সত্তা দিয়ে কোনোকিছু বিচার-বিবেচনা করতে পারি না। আমাদের ভাল লাগা, খারাপ লাগা, সুন্দর-অসুন্দর, কী বলতে হবে, কী খেতে হবে সবকিছুই গণমাধ্যম দ্বারা নির্ধারিত হয়। এমনকি আমরা কী চিন্তা করব, কীভাবে করব তাও নির্ধারণ করে দেয় গণমাধ্যম।

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, যদি আপনার একটা মাল্টিমিডিয়া মোবাইল ফোন সেট না থাকে তাহলে আপনি আধুনিক হতে পারবেন না, স্মার্ট হতে পারবেন না। আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক পণ্য ক্রয় করছি যেগুলো না হলেও চলত। পণ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে আমাদের ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে ফেলছে। ফলে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হয়ে পড়ছে বিচ্ছিন্ন। হীরকের রাজার সেই যন্তর-মন্তর ঘর তবু একসময় নিষ্ক্রিয় করেছিলেন গুপী-বাঘা। কিন্তু বর্তমানের যন্তর-মন্তর ঘরকে নিষ্ক্রিয় করবে কে?

হীরকের রাজা ভগবান

সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন দুর্নীতি, জবাবদিহিতার অভাব; আর এর সঙ্গে আছে সেই পুরনো কাসুন্দি চাটুকারিতা। চাটুকাররা দখল করে ফেলেছে রাষ্ট্রের সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ স্থান। বিশেষ করে শাসকের মন জয় করতে তাদের চেষ্টার যেন শেষ নেই। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে মন্ত্রীরা; এর সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে উপদেষ্টারা। হীরকের মন্ত্রীদের মতোই রাজাকে খুশি রাখতে সবসময় মন্ত্রী-উপদেষ্টারা অস্থির। হীরকের রাজা যাই বলেন, প্রথমে উপদেষ্টা তাতে তাল দেয়, তৎক্ষণাৎ মন্ত্রীরা নির্বোধ বুজুর্গের ঢঙে হ্যাঁ হুজুর বলে সম্মতি দিতে থাকে।

আর আমাদের রাজ্যে কোনোকিছুর নাম বদলাতে হবে, রাজা বলার সঙ্গে সঙ্গেই সভাসদদের জ্বী হুজুর রব ওঠে। ৪০০ বছরের পুরনো নগরীকে দুই ভাগ করার মতো সিদ্ধান্ত সংসদে চার মিনিটে অনুমোদিত হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সংসদ থেকে বের হয়ে দুঃখ করে বলেন, ‘অনেক পড়াশুনা করে প্রস্তুতি নিয়ে আজ সংসদে এসেছিলাম, নানা ধরনের প্রশ্নের জবাব দেব বলে। কিন্তু কেউ কোনো প্রশ্নই করল না।’ রাজার সভাসদ প্রশ্ন করবে কোন সাহসে, পাছে রাজা অখুশি হন! কেননা রাজার খুশির উপর নির্ভর করে তাদের ক্ষমতার ধরন, স্থায়িত্ব। পাঠক, এই হলো আমাদের রাজা, আর চলচ্চিত্রে ছিল হীরকের রাজা। চলচ্চিত্র আর বাস্তব যেন মিলেমিশে একাকার।

শুধু মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও আমলারাই নয়, ক্ষমতার পূজোয় সদা প্রস্তুত আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। রাজা বললে তারা সব করতে পারে, ছাত্রকে পেটায়, পেটায় শিক্ষককেও। আর সাধারণ মানুষতো তাদের কাছে নস্যি। তাদের সন্দেহে পা হারাতে হয় ঝালকাঠির লিমনকে। সন্দেহ থেকে রক্ষা পায় না, দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাদের। ডাকাত সন্দেহে আটক করে তারা থানায় নিয়ে চালায় অকথ্য নির্যাতন। আমাদের রাজা পেটায়, গুলি করে আর হীরকের রাজা পড়াশুনা বন্ধ করে যন্তর-মন্তর ঘরে ঢুকিয়ে মস্তিষ্ক প্রক্ষালন করে।

রাস্তার বেহাল দশায় উৎসবে বাড়ি ফিরতে পারে না লাখো মানুষ। দুর্নীতির অভিযোগে বন্ধ হয় দেশের বৃহত্তম সেতুর নির্মাণ। তারপরও কী এক ‘অদৃশ্য ক্ষমতা’র জোরে গদিতে টিকে থাকেন মন্ত্রী। পত্রিকার পাতায় প্রতিদিন থাকে দুর্ঘটনা আর লাশের ছবি। রাস্তায় পড়ে থাকে বিখ্যাত পরিচালকের নিথর দেহ, ভেঙে যায় আমাদের মাটির ময়না; তারপরও অশিক্ষিত, প্রশিক্ষণহীন ব্যক্তিকে লাইসেন্স দিতে আন্দোলনে নামেন মন্ত্রী। পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হয় ‘ভাগ্যবান জামির দুর্ভাগা জাতি’১০। তারপরও নির্লজ্জ মন্ত্রীরা বেহায়ার মতো মন্ত্রীত্ব করেন!

শেয়ার বাজারে ধস নামে, নিঃস্ব বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। কথা ওঠে উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে, বিলিয়ন টাকা প্লেনে চড়ে যায় বিদেশে; তারপরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী রেগে উঠে তুলোধুনো করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়লে মন্ত্রী ‘সিন্ডিকেট’কে দায়ী করে নিজের ব্যর্থতা ঢাকেন। এ কেবল ‘হীরক রাজার দেশে’ই সম্ভব!

কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়

হীরকের দেশে যুগপূর্তি উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের রাজাদের। রাজ্যের দারিদ্রতা ঢাকতে ব্যস্ত হীরক রাজা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। কোনোভাবেই অতিথিদের দেখানো যাবে না প্রজাদের জীর্ণ দশা। তাই রাজার হুকুম অতিথি আগমনের পথ থেকে সরাতে হবে রাজ্যের সব বস্তি। যেই কথা সেই কাজ; উচ্ছেদ হলো বস্তি, দরিদ্র প্রজাকে রাখা হলো অস্থায়ী এক শিবিরে।

হীরকের রাজা আমাদের রাজ্যে তার সেই শাসন শুরু করলেন ২০১১ তে। যুগপূর্তির জায়গায় বিশ্বকাপ ক্রিকেট। মহা উৎসব। রাত-দিন চলছে ধোয়া-মোছার কাজ। রাজধানী বর্ণিল সাজে সজ্জিত। সেখানে আগমন ঘটবে বিদেশি মহারথীদের। দেশের ইমেজ বলে কথা, রাজার সম্মান বলে কথা- তাই হটাও ভিক্ষুক। পাক্কা দুই দিন তাই ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ। দৈনিক ১৫০ টাকা করে দিয়ে ভিক্ষুক মুক্ত করো রাজধানীকে। বিদেশি খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদির কাছে দেশকে তুলে ধরো  ভিক্ষুকহীন করে!

শুধু আমাদের রাজ্যে নয়, একইভাবে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা গিয়েছিল হীরকের রাজাকে। বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করতে গিয়ে হাজার হাজার ভাসমান দরিদ্র মানুষকে রাস্তা থেকে উচ্ছেদ করেছিল তারা; রেখেছিল অস্থায়ী ক্যাম্পে। বিশ্বকাপের কারণে প্রচুর খরচে অর্থনীতি পিছিয়ে পড়লেও তারা ভ্রুক্ষেপ করে নি। ভুভুজেলার শব্দে চাপা পড়েছিল আফ্রিকার লাখো ভুখা মানুষের কান্নার আওয়াজ। যুগে-যুগে দেশে দেশে এই হলো হীরক রাজাদের উপাখ্যান।

যুগে যুগে গুপী বাঘা

হল্লা রাজ্যে মন্ত্রীর ষড়যন্ত্র রুখে দেন গুপী বাঘা। হল্লায় গুপী বাঘা স্বাধীনতাকামী মানুষেরই প্রতিরূপ। শোষণের বিরুদ্ধে গুপী বাঘার সংগ্রামের এই চিত্র আমরা হীরক রাজ্যেও দেখতে পাই। অত্যাচারী হীরক রাজা হীরার খনির শ্রমিক ও প্রজাদের নানাভাবে অত্যাচার করে। হীরক রাজার প্রতিরোধে এগিয়ে আসে মাস্টার মশাই, সেখানেও সঙ্গে থাকে গুপী বাঘা। আবারও জয় হয় মুক্তিকামী মানুষের। আনন্দ নগরে অশুভ শক্তির কবল থেকে সমাজ রক্ষার যে প্রচেষ্টা তা যুগে যুগে শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রচেষ্টারই প্রতিনিধি।

তার মানে যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গুপী বাঘারা সংগ্রাম করেছে, এখনো করছে; রাশিয়ায় জারের বিরুদ্ধে, কিউবায় করেছে বাতিস্তুতার বিরুদ্ধে। এখনো সংগ্রাম চলছে ফিলিস্তিনে, ভারতের জঙ্গলে। দুইশত বছর পরাধীনতার শিকল ছিঁড়ে ক্ষুদিরাম, সূর্যসেন, তিতুমীর, প্রীতিলতা, গান্ধীরূপে এসেছে গুপী বাঘারা। ’৭১ এর গুপী বাঘারা হটিয়েছে পাকিস্তানিদের। তিউনিশিয়া, মিশর, লিবিয়ায় গুপী বাঘাদের অবাধ বিচরণ ফিরে ফিরে আসে।

হীরকের রাজার বিশাল মূর্তিটি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল জনতা। এভাবেই যুগে যুগে অন্যায় অবিচারের মসনদ জনতা গুড়িয়ে দেয়; নেপথ্যে থাকে গুপী বাঘারা। পার্থক্য শুধু একটাই সেই গুপী বাঘাদের কাছে ভূতের বর থাকে না, থাকে চেতনা। কালে কালে সেই চেতনার জয় হয়েছে, জয় হয়েছে চেতনার ধারক মানুষের। এই মানুষই নিজ চেষ্টায় গুহাবাস থেকে চাঁদে-বাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিবর্তন মানুষের, কোনো ভৌতিক শক্তির নয়। আর এখানেই সত্যজিৎ কিছুটা সমালোচিত।

লেখক : ফারুক ইমন  হাসানুর কবীর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ  সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম  তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী

hassanur92@gmail.com

faruk_hashe@yahoo.com

তথ্যসূত্র

১. ‘ঋণের দায়মুক্তি আত্মহত্যায়!’; কালের কণ্ঠ, ২০ নভেম্বর ২০১১।

২. মাত্র নয় হাজার টাকার জন্য ২০০৭ সালের ৮ জুলাই নীলফামারীতে মনোরঞ্জন নামে এক কৃষককে ব্যাংকের করা মামলায় জেলহাজতে যেতে হয়। পরদিন ৯ জুলাই ২০০৭ প্রথম আলো পত্রিকায় এই সংবাদটি প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

৩. ১৯২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতাটি ধূমকেতু পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর তৎকালীন বৃটিশ সরকারের রোষে পড়েন কবি; শেষ পর্যন্ত তাকে এই কবিতার জন্য কারাভোগ করতে হয়েছিল।

৪. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে জনমত সৃষ্টির অভিযোগে মহিউদ্দীনকে ১ অক্টোবর ২০১১ গ্রেপ্তার করা হয়।

৫. জহির রায়হান নির্মিত এই চলচ্চিত্রটিকে সরকার বিরোধী আখ্যা দিয়ে ১৯৭০ সালে তৎকালীন সেন্সর বোর্ড আটকে দেয়। অভিযোগ করা হয়, চলচ্চিত্রটির একটি চরিত্রে আইয়ুব খানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। পরে অবশ্য কয়েকজন বাঙালী বুদ্ধিজীবীর সহায়তায় সরকার এটি সেন্সর ছাড়পত্র দেয়। মুক্তির প্রথম দিনে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার অভিযোগে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে পাকিস্তানি সেনারা এর প্রিন্ট জব্দ করে। পরে প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার ছবিটি মুক্তি দিতে বাধ্য হন।

৬. ইরানের এ চলচ্চিত্রকারকে সরকারের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্রের ভাষায় কথা বলার অভিযোগে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সেদেশের আদালত।

৭. মিশেল ফুকো বলেন, আধুনিক সমাজে অনুশাসন চালানোর প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান হলো হাসপাতাল, কারাগার, স্কুল, কারখানা ইত্যাদি যেখানে মানুষকে রাখা হয় নজরবন্দি অবস্থায়। অসুস্থ মানুষের শারীরিক ক্রিয়াকর্ম পরীক্ষার জন্য তাকে নজরবন্দি করে রাখা হয় হাসপাতালে, আইনভঙ্গকারীকে কারাগারে, ছাত্রকে স্কুলে, শ্রমিককে কারখানায়। নজরবন্দি করতে পারলে তবেই তাকে অনুশাসনবদ্ধ করা যায়। এই শাসন শারীরিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে না, বরং কাজ করে মানুষের চেতনায়। অনুশাসনের উদ্দেশ্য সার্বভৌম শক্তির ভয় দেখানো নয়, তার উদ্দেশ্য স্বশাসন।...এই হলো আধুনিক সমাজব্যবস্থা, যেখানে ক্ষমতার আদর্শ, কেন্দ্রহীন সর্বব্যাপি এক অনুশাসনতন্ত্র। যেখানে সকলেই স্বাধীন, অথচ স্থায়ীভাবেই তারা অনুশাসনের শৃঙ্খল পরতে রাজি থাকে। বিস্তারিত দেখতে পারেন : মামুন, আ-আল (২০০৬); মানবপ্রকৃতি : ন্যায়নিষ্ঠা বনাম ক্ষমতা, রোদ, রাজশাহী।

৮. বিস্তারিত দেখুন: রহমান, সাদিকুর (২০০৯); আন্তোনিও গ্রামসির সহজপাঠ, ঘাস ফুল নদী, ঢাকা।

৯. ‘চরম নিষ্ঠুরতা’; প্রথম আলো; ৭ এপ্রিল ২০১১।

১০. চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ আর শিক্ষক সাংবাদিক মিশুক মুনীরদের বহনকারী মাইক্রোবাসের সঙ্গে যে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল সেই বাসের চালক জামির হোসেনের মুক্তিসহ সারা দেশে অন্য চালকদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় করা মামলা বাতিলসহ কয়েকটি দাবিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২১ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চলে ২০১১ অক্টোবরের শেষ দিকে। ২৭ অক্টোবর ২০১১ প্রথম আলো এই সংবাদটির শিরোনাম করেছিল এভাবে- ‘ভাগ্যবান জামির দুর্ভাগা জাতি’।

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন