Magic Lanthon

               

ইমরুল আযম  মিল্টন

প্রকাশিত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

চলচ্চিত্র শিক্ষা ও অল ইউনিয়ন স্টেট  ইন্সটিটিউট অব সিনেমাটোগ্রাফি

ইমরুল আযম  মিল্টন


উনিশ শতকের শেষ দশকে প্রাত্যহিক জীবনের চলমান চিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র নামক শিল্পের যাত্রা শুরু। আপাত শুরুটা উনিশ শতকের শেষ দশক মনে হলেও আসলে শুরু হয়েছিল কিন্তু তারও কয়েক’শ বছর আগে। মানুষ যখন আলতামিরা গুহায় ছয় পায়ের বাইসনের ছবি এঁকেছিল, তখন থেকেই তারা গতিকে ধরতে চেয়েছিল। উনিশ শতকের শুরুতে সেই ইচ্ছে বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে। এসময় চলচ্চিত্রকেন্দ্রিক কতগুলো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সাধিত হয়। বস্তুত, স্থিরচিত্র ধারণ ও পরিস্ফুটন সম্ভব হওয়ার পর থেকেই চলমানচিত্র দর্শন প্রচেষ্টার শুরু হয়। সময়ের পর্যায়ক্রমে উদ্ভব হয় চলচ্চিত্র শিল্পের। যেটা একই সঙ্গে ব্যবসা ও শিল্প হিসেবে দাঁড়ায়। এরই মধ্যে চলচ্চিত্র এক’শ বছর পার করেছে। বলা হয়ে থাকে ১৮১৫ থেকে ১৮৯৫ পর্যন্ত ৮০ বছর সময়কাল ছিল চলচ্চিত্রের প্রস্তুতি পর্ব ও জন্মকাল।১ আর পরবর্তী ১০০ বছর এর চরম অগ্রগতির কাল। আমরা এখন সেই কালে অবস্থান করছি। চলচ্চিত্র মানুষ ছাড়িয়ে এখন চলে গেছে যন্ত্রের কাছে। মানবীয় আবেগ দিচ্ছে এখন মানুষের তৈরি অ্যানিমেশন। দীর্ঘসময় ধরে চলচ্চিত্র নিয়ে মানুষের এ চিন্তার কোনো একাডেমিক কাঠামো ছিল না। কিন্তু সময়ের ধারাবাহিকতায় মানুষ চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রয়োজন অনুভব করেছে, গড়ে তুলেছে চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চলচ্চিত্র সংক্রান্ত বিশ্বের প্রথম একাডেমিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ আলোচনা।

.

সর্বশেষ লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের হাত ধরে ১৮৯৫ সালে চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সফলতার পর থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে এক-দুই মিনিটের কয়েক হাজার চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। অবশ্য এর আগেই লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় ও তাদের কোম্পানি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু করে। এভাবে তারা ১৮৯৬ ও ১৮৯৭ সালের মধ্যে বৃটেন, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত রাশিয়া, জার্মানি, আফ্রিকা, ভারত, চিন ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে দেন সেই সময়ের বিস্ময়কর এ শিল্প মাধ্যমকে।

১৮৯৫ থেকে চলচ্চিত্রের যাত্রা অব্যাহতভাবে চললেও চলচ্চিত্র বিষয়ে পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রে ১৯১৮ সাল অবধি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কাঠামো কোথাও গড়ে ওঠে নি। ১৯১৯ সালে প্রথম তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া সরকার চলচ্চিত্রবিষয়ক শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রয়োজন অনুভব করে। একই বছর প্রতিষ্ঠিত হয় ‘অল ইউনিয়ন স্টেট ইন্সটিটিউট অব সিনেমাটোগ্রাফি’ সংক্ষেপে ‘ভিজিআইকে’।২ এ শিক্ষায়তনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ভ্লাদিমির গার্ডিন ও আলেকজান্ডার নভিকভ। চলচ্চিত্রের প্রারম্ভিক এই প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনার আগে কোন পরিপ্রেক্ষিতে সেসময় সোভিয়েতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল তা আলোচনায় আসা জরুরি।

.

সোভিয়েত রাশিয়ায় চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয় লুমিয়ের ভাইদের কল্যাণে ১৮৯৬ সালের ১৫ মে। এ দিনে যুবরাজ দ্বিতীয় নিকোলাই রাশিয়ায় নতুন ‘জার’ পদে অভিষিক্ত হন। ফরাসি রাষ্টদূতের মধ্যস্থতায় সম্রাটের রাজ্যাভিষেকের দুর্লভ দৃশ্য মুভি ক্যামেরায় ধরে রাখার দায়িত্ব পান লুমিয়ের ট্রুপ।৩ অভিষেক অনুষ্ঠানটি তৎকালীন রাজধানী পিটার্সবার্গে না হয়ে, হয়েছিল মস্কোয়। অভিষেকের দিনে বিশেষ উঁচু স্থানে বসানো হলো ক্যামেরা। বিখ্যাত সাহিত্যিক তলস্তয় পরবর্তীতে তার লেখায় যে যন্ত্রটিকে ‘হাতলওয়ালা ক্লিক ক্লিক আওয়াজ তোলা খুদে বিচিত্র কল’ বলে অভিহিত করেছিলেন।৪ মূলত রাজকীয় এ অভিষেকের ছবি সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি হবার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার সিনেমারও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল।

এ ঘটনার মাসখানেক পরে নিঝ্‌নি নভগোরাদ নামক একটি মেলায় রাশিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রথম ‘চলমান ছবি’ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে জার সরকার। এখনকার গ্রাম্য মেলায় বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে যেমন পুতুলনাচ, সার্কাস ইত্যাদি জাতীয় আয়োজন করা হয়, তেমনি তখনকার মেলার অতিরিক্ত আকর্ষণ ছিল এ চলচ্চিত্র। এখানেও কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছিল লুমিয়েরদের সিনেমাটোগ্রাফি।

পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে রাশিয়ায় প্রথম ফিল্ম কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন আলেকজান্ডার ড্রনকভ। এ বছরেই ফ্রান্সের সাথে যৌথ প্রযোজনায় মরিস মাত্রের পরিচালনায় প্রথম রুশ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কসাক্‌স অব দ্য ডন মুক্তি পায়।৫ চলচ্চিত্রটি আশাতীত সাফল্য পায়। ১৯০৮ থেকে পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য ছবি তৈরি হয় রাশিয়ায়। এগুলোর মধ্যে স্টেন্‌কা রেজিন ও ট্র্যাজেডি অব তলস্তয় উল্লেখযোগ্য। ১৯১৪ সালের দিকে পশ্চিম ইউরোপের আধা-উপনিবেশ হিসেবে জারশাসিত সোভিয়েত সাম্রাজ্যের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিবেশ প্রকট হয়ে ওঠে। এ সময় ফ্রান্স, বৃটেন, জার্মানি বাণিজ্য ও কূটনীতির ক্ষেত্রে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করে। ফলে প্রচুর বিনিয়োগ হতে থাকে।৬ এতে জার রাজার রাজকোষও বেশ ফুলে-ফেঁপে ওঠে। ফলশ্রুতিতে জার সরকারকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে বহিরাগত এসব শক্তি। যার দায়ভার অনেকখানি রুশ চলচ্চিত্রকেও বহন করতে হয়।

ইতিমধ্যে ১৯১৪ সালে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। যুদ্ধে রাশিয়া জড়িয়ে পড়ায় দেশের আর্থিক চেহারা যায় বদলে। কিন্তু রাশিয়ার চলচ্চিত্রের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে এই যুদ্ধ। বিদেশি কোম্পানিগুলোর রাহু থেকে বেরিয়ে দেশীয় সিনেমা শিল্পের উৎপাদন ও দক্ষতা উভয়ই বেড়ে যায়। বছর দু’য়েকের মধ্যে সরকারি সহায়তায় চলচ্চিত্রের জন্য স্কোবেলভ কমিটিসহ রাশিয়ায় বেশকিছু নিজস্ব কোম্পানি গড়ে ওঠে। তৈরি হতে থাকে নতুন নতুন সব চলচ্চিত্র স্টুডিও। বিশ্বযুদ্ধের কারণে কাঁচা-ফিল্মের আমদানি অনিয়মিত হওয়ায় উদীয়মান সিনেমাশিল্পে অভাব দেখা দিলেও নতুন নতুন ছবি নির্মাণ ও দর্শক সংখ্যা চলচ্চিত্রশিল্পের অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে থাকে। এতে চলচ্চিত্রের গুণগত মান বৃদ্ধি না পেলেও সংখ্যা কিন্তু বেড়েই চলে।৭

৩.

১৯১৬ সাল। রাশিয়ার আর্থসামাজিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। দেশে দারিদ্রের হার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, ডুমা৮ সদস্যদের দুর্নীতি প্রভৃতি একপ্রকার নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করে। শুরু হয় শহরে শহরে বিক্ষোভ। তুমুল আন্দোলন। ১৯১৭ সালের অক্টোবরের টানা শ্রমিক ধর্মঘটে জার শাসনের পতন ঘটে। লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার ক্ষমতায় বসে সমাজতান্ত্রিক সরকার। প্রতিষ্ঠা হয় সোভিয়েত রাশিয়া।

মজার ব্যাপার হলো, জার সরকারের উইন্টার প্যালেস দখল করার সঙ্গে সঙ্গেই নবগঠিত সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত সরকার চলচ্চিত্রশিল্পকে ‘গুরুত্বপূর্ণ শিল্পমাধ্যম’ হিসেবে স্বীকার করে নেয়। তার পরিচয় পাওয়া যায়, ক্ষমতা দখলের মাত্র তিন দিনের মাথায় সরকারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উপরিভাগ হিসেবে সোভিয়েত ফিল্ম কমিটি তৈরি করার মাধ্যমে। সরকার মূলত বিপ্লবোত্তর গৃহযুদ্ধ, ভঙ্গুর অর্থনীতি, দরিদ্র ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নানাবিধ কর্মকাণ্ডে চলচ্চিত্রের মতো একটি শক্তিশালী মাধ্যমকে পাশে চেয়েছিল।

এর কয়েক মাস ব্যবধানে চলচ্চিত্র সংক্রান্ত বিষয় ন্যস্ত করা হয় মস্কোর নতুন স্টেট সিনেমা কমিটির হাতে। এ সময় চলচ্চিত্রে ডাক দেয়া হয় নতুন এক জাগরণের। বলা হয়, চলচ্চিত্র শুধু মুনাফার জন্য তৈরি হবে না, এতে জাগ্রত করতে হবে বিপ্লবী চেতনা। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রকে জনশিক্ষার হাতিয়ারে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ‘আজিতাৎসিয়া-প্রোপাগান্ডা’ বা ‘অ্যাজিট-প্রপ’ নামের নতুন ধারার সিনেমার সূত্রপাত ঘটানো হয়। ‘অ্যাজিটকি’ নামে পরিচিত এই নিউজ রিল বিপ্লবোত্তর রাশিয়ায় জনগণকে রাজনৈতিক মতাদর্শে ভাবাপন্ন ও শিক্ষিত করার কাজে বহুলাংশে ব্যবহৃত হয়েছিল।৯ এখানে একটা বিষয় না বললেই নয়, চলচ্চিত্রের বিকাশে বিশ্বের একক কোনো রাজনৈতিক ঘটনার প্রতি যদি এই শিল্পকে কৃতজ্ঞ থাকতে হয়, সেটা ১৯১৭ এর অক্টোবরের বিপ্লব।১০

মূলত এ বিপ্লবের পরই রুশ চলচ্চিত্রশিল্পের উন্মেষে নবজাগরণ হয়। আর এ নবজাগরণের জোয়ারে শামিল হন আইজেনস্টাইন-পুদভকিন-কুলেশভ-দভচেঙ্কো ও ঝিগা ভের্তবের মতো একঝাঁক প্রতিভাবান চলচ্চিত্রকার। আইজেনস্টাইনের কথাই যদি ধরি, তিনি ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র; সেখান থেকে বিপ্লবী লালফৌজের থিয়েটার ইউনিটের ডিজাইনার। অতঃপর শ্রমিকদের থিয়েটার ‘প্রোলেতকাল্‌ত এরিনা’ হয়ে চলচ্চিত্রের অঙ্গনে। উৎকেভিচ ছিলেন আর্টিস্ট, দভঝেঙ্কো ছিলেন টিচার্স কলেজের স্নাতক, ইউক্রাইন ছিলেন সাংবাদিক আর পদার্থবিদ্যার ছাত্র পুদভকিন করতেন ল্যাবরেটরির চাকরি। এরা সবাই রুশ বিপ্লবের পর নতুন উদ্যোমে আশীর্বাদ হয়ে যোগ দেন সোভিয়েত চলচ্চিত্রশিল্পে।

যাহোক, এ ধরনের একটা সোনালি সময় পার করছিল সোভিয়েত চলচ্চিত্র। ঠিক এ রকম একটি সময়ে ১৯১৯ সালে সোভিয়েত সরকার চলচ্চিত্রশিল্প জাতীয়করণে ডিক্রি জারি করে। চলচ্চিত্র পায় নতুন মাত্রা। এর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সচেতন হন সোভিয়েত সরকার। এরই ফলে ওই বছরেই লেনিনের সক্রিয় উদ্যোগে মস্কোয় স্থাপিত হয় বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র শিক্ষাকেন্দ্র ‘অল ইউনিয়ন স্টেট ইন্সটিটিউট অব সিনেমাটোগ্রাফি’। অনেক পথ পেরিয়ে ২০০৮ এসে সেই ইনস্টিটিউটই আজকের রাশিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটি অব সিনেমাটোগ্রাফি।১১

লেলিন উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সহায়তা দিয়েছিলেন ঠিক আছে; কিন্তু যে দু’জন লোকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হয়েছিল সেই প্রতিষ্ঠান তারা হলেন, লেভ কুশেলভ ও ভ্লাদিমির গার্ডিন। ১৯৮৬ সালে এসে মূল নাম পরিবর্তন করে অভিনেতা ও পরিচালক সের্গেই গেরাসিমভের নামানুসারে ‘অল ইউনিয়ন স্টেট ইন্সটিটিউট অব সিনেমাটোগ্রাফি’ এর নামকরণ করা হয় ‘গেরাসিমভ ইন্সটিটিউট অব সিনেমাটোগ্রাফি’। গার্ডিন, কুলেশভ এর বাইরে এই প্রতিষ্ঠানে সেসময় শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলেন অভিনেত্রী প্রেয়োব্রাজেনস্কায়া, লিওদিনভ। আরও পরে আইজেনস্টাইন, পুদভকিন, কোজিনৎসেভ, দভঝেঙ্কো, উৎকোভিচ, চিত্রগ্রাহক তিসে প্রমুখ। পরবর্তীতে মিখাইল রম, বন্দারচুক, কারমেন, চেখভ, কোমারভ, আদ্রেঁই তারকাভস্কি, ভাসিলি শুকসিন, কনচালভস্কি, মিখাইলবভ প্রমুখ বিখ্যাত চলচ্চিত্রকাররাও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।১২

.

চলচ্চিত্র সম্পর্কে একটা কথা বলা হয়ে থাকে, এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটা যৌথ শিল্প। একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে পরিচালক প্রধান ও মূখ্য ভূমিকা পালন করলেও যৌথ এ শিল্পে চিত্রনাট্যকার, আলোকচিত্র, শিল্প নির্দেশক, সংগীত পরিচালক, সম্পাদক, অভিনেতা-অভিনেত্রী এমনকি একজন স্পটবয়ের ভূমিকাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেজন্য সময়ের আবর্তে রাশিয়ান ওই প্রতিষ্ঠানে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন আঙ্গিক ও প্রকরণের সব দিক বিবেচনায় রেখে চলচ্চিত্র শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণের নানা বিভাগ ও কোর্স চালু করা হয়। বর্তমানে আপনি চাইলে চলচ্চিত্র বিষয়ের যেকোনো বিভাগে অধ্যয়ন করতে পারেন এই প্রতিষ্ঠানে। নিতে পারেন চলচ্চিত্রের ওপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও।

চলচ্চিত্রের মূল যে শাখা পরিচালনা; প্রথমে কথা সেটি নিয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র পরিচালনা বিষয়ের ওপর আলাদা একটি বিভাগ আছে। সেখানে আপনি পরিচালনা সংক্রান্ত নানাবিধ কারিগরি ও তাত্ত্বিক বিষয় শিখতে পারবেন। আছে ফিকশন, নন-ফিকশন ফিল্ম পরিচালনা, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রোগ্রাম পরিচালনা, ভিডিও পরিচালনার মতো প্রয়োজনীয় সব কোর্স। পাঁচ বছর মেয়াদী এ স্নাতক কোর্সে এর বাইরেও সঙ্গীত ও শব্দ সংযোজন, মাল্টিমিডিয়া ও শব্দনিয়ন্ত্রণ গুরুত্ব দিয়ে শেখানো হয়। মূল কথা আপনাকে একজন পূর্ণাঙ্গ পরিচালক করে তোলা। কেউ বড় অভিনেতা হবেন। হবেন সিনেমার রঙ্গীন পর্দার একজন কুশীলব। সেজন্যও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে চার বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্স। নাটক, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র তিন মাধ্যমের উপযোগী করে এ অভিনয় কোর্সটি পড়ানো হয়।

চলচ্চিত্রের গতিময়তা সিনেমাটোগ্রাফিকে জুড়ে। সিনেমাটোগ্রাফি বিভাগে আছে পাঁচ বছরের স্নাতক কোর্স। আগেই বলেছি, প্রযুক্তির বদৌলতে চলচ্চিত্রে মানুষের জায়গা দখল করে নিয়েছে অ্যানিমেশন। ছবি এঁকে সেই ছবিকে জীবন্ত অর্থাৎ মুভমেন্ট করানোর নাম এই অ্যানিমেশন। হয়ত একসময় এই অ্যানিমেশনই পুরো চলচ্চিত্র জুড়ে রাজত্ব করবে। এ চিন্তা থেকে পিছিয়ে নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়। অ্যানিমেশন ও মাল্টিমিডিয়ার উপরই এখানে রয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্স।

চিত্রনাট্যকে বলা হয় ‘বরের ঘরের মাসি, কনের ঘরের পিসি’। অর্থাৎ চলচ্চিত্র, সাহিত্য দু’দিকেই এর আত্মীয়।১৩ একটি ভাল নির্মীয়মান ছবির বিস্তৃত প্রকল্পনা (ব্লু-প্রিন্ট) হিসেবে কাজ করে চিত্রনাট্য। সেই চিত্রনাট্য রচনা ও ক্যামেরা প্রশিক্ষণ নামে এখানে রয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদী স্নাতক কোর্স। এ কোর্সে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও চলচ্চিত্রের সমালোচনা বিষয়েও পাঠদান করা হয়। এরপরে আসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ প্রোডাকশন ও প্রোডাকশন ডিজাইন। ছয় বছর মেয়াদি এ স্নাতক কোর্সে প্রোডাকশন ডিজাইন, স্পেশাল ইফেক্ট তৈরি, পোষাক পরিকল্পনা প্রভৃতি শেখানো হয়।

চলচ্চিত্রতো তৈরি হলো, এবার সেটাকে দর্শকদের কাছে পৌঁছতে হবে। কত ভালোভাবে আপনি এই চলচ্চিত্র, দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারবেন তার ওপর ব্যবসা নির্ভর করবে। সেজন্য আছে পাঁচ বছর মেয়াদী পরিবেশনা ও পরিবেশক বিষয়ক স্নাতক কোর্স। এ কোর্সে মূলত অডিও ভিজ্যুয়াল মিডিয়া, প্রডিউসার এবং পরিবেশনার নানান মাত্রাগত দিক শেখানো হয়।

আপনি যদি রাশিয়ার ওই ফিল্ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান তাহলে আপনাকে যেকোনো বিভাগের কোর্সভিত্তিক পড়াশুনার পাশাপাশি রাশিয়ান সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিশ্বসাহিত্য, নন্দনতত্ত্ব, দর্শন, সঙ্গীত এমনকি ইতিহাস বিষয়াদি পড়তে হবে।

.

এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, রাশিয়া কেবল তাদের শিক্ষার্থীদের জন্যই এই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে রেখেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকার সময় সারা পৃথিবীর শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশুনা করত। এখনো আপনার যদি অন্য বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর করা থাকে সেক্ষেত্রে এখানে পড়ার সুযোগ আছে। তখন আপনাকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় প্রফেশনাল শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রফেশনাল ডিগ্রি নিতে হবে। তিন বছর মেয়াদী এ ধরনের বিশেষ কোর্সে চিত্রনাট্য লিখন, পরিচালনা, নাটক, অভিনয়, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা কিংবা শব্দ সম্পাদনা প্রভৃতি বিষয় পড়ানো হয়। কেউ চাইলে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্নাতকোত্তর কোর্সও করতে পারেন। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এছাড়া অল্প সময়ে চলচ্চিত্রের খুঁটিনাটি বিষয়াদি সম্পর্কে জানার জন্য চলচ্চিত্রের তত্ত্ব ও ইতিহাস, চিত্রনাট্য লিখন, টেলিভিশন, মাল্টিমিডিয়া প্রভৃতি বিষয়ের ওপর আপনি চাইলে ¯^í-mg‡q সংক্ষিপ্ত কোর্সও করতে পারেন। সেক্ষেত্রে কী ধরনের কোর্স পড়তে পারবেন তা কোর্সের মেয়াদ ও টিউশন ফি’র ওপর নির্ভর করবে।

.

রাজধানী মস্কোতে রয়েছে রাশিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটি অব সিনেমাটোগ্রাফির সুপরিসর ক্যাম্পাস। চলচ্চিত্রের পুরোটাই হলো ব্যবহারিক অর্থাৎ হাতে-কলমে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর রয়েছে একটি বিশ্বমানের ফিল্ম স্টুডিও। যেখানে শিক্ষার্থীরা শুটিংয়ের যাবতীয় ব্যবহারিক ক্লাস করে থাকে। স্নাতক পর্যায়ে যে ‘গ্রাজুয়েশন ফিল্ম’ টি করতে হয় তা ওই স্টুডিওতেই নির্মাণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫০ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ১৬ তলা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস। এর প্রতিটি তলায় রয়েছে ১৬টি ব্লক। প্রতি ব্লকে দু’টি করে শয়নকক্ষ, একটি হল রুম ও একটি বাথরুম।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সব কোর্স রাশিয়ান ভাষায় পড়ানো হয়। বিদেশি শিক্ষার্থীদের তাই ভর্তির পর রাশিয়ান ভাষার ওপর প্রস্তুতিমূলক (প্রিপারেটরি) কোর্স করানো হয়। প্রিপারেটরি কোর্সের মেয়াদ সাধারণত ৩৬ সপ্তাহ। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে তা জুন মাসে শেষ হয়। প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা করে ৩৪ সপ্তাহ ধরে চলে পাঠদান। বাকি ৪ সপ্তাহ অবকাশ। ‘রাশিয়ান অ্যাজ এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ এ্যান্ড অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু ফিল্ম মেকিং’ শীর্ষক এ কোর্সের উদ্দেশ্য হলো- রাশিয়ান ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক একটা ধারণা দেওয়া।

এত কিছু জানার পর এখন স্বভাবতই আগ্রহ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে। নিজ খরচে পড়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি রাশিয়ান ফেডারেল বাজেট হতেও দেওয়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আবেদন যদি রাশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ফেডারেল শিক্ষা সংস্থা কর্তৃক সুপারিশ করা হয়, তাহলে সম্পূর্ণ ফ্রি পড়াশুনারও সুযোগ আছে।

এছাড়াও বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আরেকটি সুযোগ। যদি কোনো দেশের সাথে রাশিয়ার উচ্চ শিক্ষা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি থাকে এবং আপনি যদি সেই দেশের নাগরিক হন তাহলেও টিউশন ফি ছাড়াই অধ্যয়নের সুযোগ পেতে পারেন।

স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্সের জন্য রাশিয়া শিক্ষা কাউন্সিলের নির্ধারিত নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। এছাড়া অন্যান্য কোর্সের ফি নির্ভর করে মূলত কোর্সের সংখ্যা ও ব্যবহারিক শিক্ষা পদ্ধতির ওপর। তবে শুটিং ও ভিডিও কার্যক্রমের জন্য শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। মূলত টিউশন ফি নির্ভর করে শিক্ষার্থী ফিল্মের কোন বিষয়ে পড়াশুনা করছেন তার ওপর।

সার্বিক বিবেচনা করে আপনি যদি এখন রাশিয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সে ভর্তি হতে ইচ্ছুক হন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। আবেদনপত্রের সাথে আপনার একাডেমিক কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এক্ষেত্রে আবেদন ফরমের সঙ্গে নোটারি পাবলিক কর্তৃক অনুমোদিত সব একাডেমিক কাগজপত্র, সব পঠিত বিষয়, একাডেমিক ক্রেডিট ও সময় এবং b¤^img~n রাশিয়ান ভাষায় অনুবাদ করে সূচিপত্রাকারে যুক্ত করতে হবে। কাগজপত্রের সাথে ৩ সে.মি./৪ সে.মি. মাপের ৮-১০টি ছবিও পাঠাতে হবে।১৪

আপনার আবেদনপত্র গৃহীত হলে ভর্তির জন্য একটি প্রবেশাধিকার পরীক্ষায় বসতে হবে। সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে এ প্রবেশাধিকার পরীক্ষা দিতে হয়। একই প্রশ্নে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশাধিকার বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের শুধু স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তির জন্য আপনাকে নিজ দেশে মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা প্রফেশনাল ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্নকারী হতে হবে। আবার স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বাধ্যতামূলকভাবে সব শিক্ষার্থীর অভিসর্ন্দভ (থিসিস) সম্পন্ন করতে হবে।

প্রবেশাধিকার পরীক্ষায় আপনি যদি উত্তীর্ণ হন তাহলে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন: রাশিয়ার বিজ্ঞান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক যাচাইয়ের জন্য সমমানের সনদপত্র, মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স পলিসি, রাশিয়ায় প্রবেশাধিকার ভিসার মূল কপি এবং আপনি যে এইচআইভি/এইডস থেকে নিরাপদ এ মর্মে সনদপত্র।

.

মূলত ‘ফল’ ও ‘স্প্রিং’ দুই সেমিস্টারে প্রিপারেটরি কোর্স সম্পন্ন হয়। ফল সেমিস্টারে রাশিয়ান ভাষা এবং চলচ্চিত্র প্রশিক্ষণ নামে দু’টি বিষয়ের ওপর পাঠদান করানো হয়। স্প্রিং সেমিস্টারে পড়ানো হয়- রাশিয়ান ভাষা-সংস্কৃতি ও সভ্যতা, চলচ্চিত্র পরিচিতি, রাশিয়ান চারুকলা, রাশিয়ান সাহিত্য, চলচ্চিত্র পরিচালনা, অভিনয় ও ক্যামেরা পরিচিতি। ফল সেমিস্টারের ভাষাবিষয়ক কোর্সে রাশিয়ার ভাষা, চলচ্চিত্র সংক্রান্ত বিভিন্ন রাশিয়ান পরিভাষা অন্তর্ভূক্ত থাকে। ১৫ সপ্তাহব্যাপি এ কোর্সের ক্রেডিট সময় ৩০০ ঘণ্টা। প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা ক্লাস করতে হয়। এ কোর্সে পরীক্ষা দিতে হয় ২০টি।

চলচ্চিত্র প্রশিক্ষণ কোর্সে মূলত চলচ্চিত্র শিক্ষার উপযোগিতা যাচাই করা হয়। উপযোগিতা নির্ণায়ক এ কোর্সের বিশেষত্ব হলো, কোনো শিক্ষকের সহায়তা ছাড়াই শিক্ষার্থীকে এ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়; পাশাপাশি যেতে হয় শিক্ষা সফরে। প্রতি সপ্তাহে একটি করে মোট ১৫টি শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা থাকে। ফল সেমিস্টারের মোট ক্রেডিট সময় ৩২০ ঘণ্টা।

স্প্রিং সেমিস্টারে রাশিয়ান ভাষা-সংস্কৃতি ও সভ্যতা শিরোনামের কোর্সে রাশিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতি, সামাজিক জীবনব্যবস্থা, পরিবেশ প্রভৃতি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। ১৪ সপ্তাহের এ কোর্সের ক্রেডিট সময় ১৫৬ ঘণ্টা। আপনাকে এ কোর্সে প্রতি সপ্তাহে ১২ ঘণ্টা করে ক্লাস করার পাশাপাশি ২০টি পরীক্ষা দিতে হয়।

স্প্রিং সেমিস্টারের দ্বিতীয় কোর্স হচ্ছে- চলচ্চিত্র পরিচিতি। রাশিয়ান ও আন্তর্জাতিক সিনেমার বিশ্লেষণ, বিখ্যাত চলচ্চিত্রকারদের শৈল্পিক উপস্থাপনা, চলচ্চিত্র ও বিশ্বসংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয় এ কোর্সের অন্তর্ভূক্ত। ১৬ সপ্তাহের এ কোর্সের ক্রেডিট সময় ৬৪ ঘণ্টা। এ কোর্সে প্রতি সপ্তাহে দুই ঘণ্টা ক্লাস ও দুই ঘণ্টা ফিল্ম প্রশিক্ষণের ব্যবহারিক ক্লাস করতে হয়।

রাশিয়ান চারুকলাবিষয়ক কোর্সে রাশিয়ার চিত্রাঙ্কন, ভাস্কর্য তথা চারুকলার ইতিহাস অন্তর্ভূক্ত। প্রতি সপ্তাহে দুই ঘণ্টা করে ১২ সপ্তাহের এ কোর্সের মেয়াদ ২৪ ঘণ্টা। এছাড়া রাশিয়ান সাহিত্য কোর্সে রাশিয়ার চিরায়ত সাহিত্য এবং চলচ্চিত্রে রাশিয়ান সাহিত্যের উপাদান সম্পর্কে আলোচনা হয়। ১২ সপ্তাহের এ কোর্সে ক্রেডিট সময় ২৪ ঘণ্টা।

স্প্রিং সেমিস্টারের শেষের কোর্সটি হলো- চলচ্চিত্র, চলচ্চিত্র পরিচালনা, অভিনয় ও ক্যামেরা পরিচিতি। এ কোর্সের ক্রেডিট সময় ৯২ ঘণ্টা। প্রিপারেটরি কোর্সে ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারের সাতটি কোর্সে একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে ব্যবহারিকসহ মোট ৩৮০ ঘণ্টা ক্লাস করতে হয়। নিম্নলিখিত ঠিকানার মাধ্যমে আগ্রহীরা এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং জেনে নিতে পারেন আরও আরও তথ্য-

ই-মেইল : foreign_vgik@mail.ru

ডাকে যোগাযোগ করতে পারেন :

Russia,Moscow, 129226

Wilhelm Pieck Str.,3

Attn.:International Department

Phone : +77991812680


লেখক : ইমরুল আজম  মিল্টন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ  সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী

azammcru@gmail.com


তথ্যসূত্র

১.দাশগুপ্ত, ধীমান (২০০৩:১৪); চলচ্চিত্রের শিল্পরূপ  কলাকৌশল; মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স, কলকাতা।

২.গুপ্ত, অজয় (২০০৯: ১৬৯); রুশ চলচিচ্চত্রের তৃতীয় পর্ব; শতবর্ষের চলচ্চিত্র; সম্পাদনা: নির্মাল্য আচার্য ও দিব্যেন্দু পালিত; আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

৩. প্রাগুক্ত, গুপ্ত, অজয়; ২০০৯: ১৬৬।

৪. প্রাগুক্ত, গুপ্ত, অজয়; ২০০৯: ১৬৬।

৫. প্রাগুক্ত, গুপ্ত, অজয়; ২০০৯: ১৬৭।

৬. প্রাগুক্ত, গুপ্ত, অজয়; ২০০৯: ১৬৮।

৭. প্রাগুক্ত, গুপ্ত, অজয়; ২০০৯: ১৬৮।

৮. ডুমা; রাশিয়ার সংসদের নাম।

৯. রায়, সত্যজিৎ (২০০৯: ২৯); বিষয়: চলচ্চিত্র; আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা।

১০. মোকাম্মেল, তানভীর (২০০৭:২৩); চলচ্চিত্র কথা; বাংলাদেশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

১১.http://en.wikipedia.org/wiki/Gerasimov_Institute_of_Cinematography

১২.http://en.wikipedia.org/wiki/Gerasimov_Institute_of_Cinematography

১৩.দাশগুপ্ত, ধীমান (২০০৩:১৫); চলচ্চিত্রের শিল্পরূপ  কলাকৌশল;, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স, কলকাতা।

১৪.http://en.wikipedia.org/wiki/Gerasimov_Institute_of_Cinematography

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন