Magic Lanthon

               

রুম্পা রানী রায়

প্রকাশিত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ মিনিট

অন্যকে জানাতে পারেন:

চলচ্চিত্রকে পূর্ণদৈর্ঘ্য করলেন যিনি

রুম্পা রানী রায়


দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে চলচ্চিত্র। সময়ের এই পথচলায় মাঝে মাঝে কিছু লোকের সক্ষমতা গতি বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাদের উপেক্ষা করে যেমন চলচ্চিত্রের ইতিহাস রচনা চলে না, তেমনি চলে না চলচ্চিত্র পঠন-পাঠন চর্চাও। তাই ম্যাজিক লণ্ঠন পরিবার তাদের সাপ্তাহিক পাঠচক্রে নিয়মিতভাবেই এসব মহান চলচ্চিত্রকারদের নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করে। সেই আলোচনার নির্যাস সংকলন করে এই লেখাটি। গ্রিফিথকে নিয়ে আলোচনার এ সংকলনটি করেছেন রুম্পা রানী রায়


পুরো নাম : ডিভিড লিউলিন ওয়ার্ক গ্রিফিথ

জন্ম : ২২ জানুয়ারি, ১৮৭৫

প্রথম চলচ্চিত্র : দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব ডলি

আলোচিত চলচ্চিত্র : দ্য বার্থ অব  নেশন

অবদান : পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র নির্মাণ

মৃত্যু : ২৩ জুলাই, ১৯৪৮

সাহিত্যের সাথে শেক্সপিয়রের সম্পর্ক যেমন, সঙ্গীতের সাথে বিটোফেনের বন্ধন যেমন, ডব্লিউ ডি গ্রিফিথের সাথে চলচ্চিত্রের আত্মীয়তাও তেমন। উত্তর আমেরিকার কেন্টাকি প্রদেশে জন্ম নেওয়া মহান এই চলচ্চিত্রকারের জীবন অনেকটা চলচ্চিত্রের কাহিনীর মতোই। মাত্র দশ বছর বয়সেই গ্রিফিথ বাবাকে হারান। বিকল্প হয়ত ছিল না; তাই পরিবারের ব্যয় নির্বাহের জন্য অন্যান্য সবার সাথে তাকেও নামতে হয় উপার্জনের পথে। প্রথম অবস্থায় গ্রিফিথ স্কুল ছুটির পর পত্রিকা ফেরি করে বেড়াতেন। কিন্তু তা সাত ভাই-বোনের সংসারে যথেষ্ট ছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত লেখাপড়াটাও বাদ দিতে হলো। সেই সাথে বাদ দিলেন পত্রিকা ফেরি করাও।

এবার তিনি পুরোদস্তুর শ্রমিক। প্রথমে লিফট বয়, তারপর বইয়ের দোকানের সেলসম্যান। সেল্‌সম্যানের কাজ তার জীবনে শাপে বর হয়ে আসে। তার জীবনে নাটকীয় এক পরিবর্তন ঘটে এই সেলসম্যানের কাজ করতে গিয়েই। বইয়ের দোকানের সেলসম্যান হওয়ায় এসময় তিনি প্রচুর বই পড়ার সুযোগ পান, নেশার মতো তা পড়তে থাকেন। এতে খুলে যায় তার অন্তর্দৃষ্টি। সাথে আর একটা কাজ হয়, গ্রিফিথের সাথে এমন কয়েকজনের পরিচয় ঘটে যারা অভিনয়ের সাথে যুক্ত।  এদের সহযোগিতায় ১৮ বছর বয়সে একটি থিয়েটার কোম্পানিতে তার চাকরি জোটে। এই চাকরি তাকে আরেকটি সুযোগ করে দেয়। চাকরির পাশাপাশি গ্রিফিথ অভিনয় করতে থাকেন বিভিন্ন নাটকে। তা চলে ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত।

শরৎচন্দ্রের ভাষায়, পথ খুঁজি না, পথ আমারে খোঁজে; পথ এবার গ্রিফিথকে নেয় লেখালেখির দিকে। ৩২ বছর বয়সে  ফুল এ্যান্ড  গার্ল নামে গ্রিফিথের একটি নাটক বাল্টিমোর ও ওয়াশিংটনে মঞ্চস্থ হয়। তবে অভিনেতা গ্রিফিথ নাট্যকার হিসেবে খুব একটা সফলতা দেখাতে না পেরে প্রবেশ করেন চলচ্চিত্রের দুনিয়ায়। এখানে এসে প্রথম তিনি যা করলেন- চলচ্চিত্রের জন্য লা টোসকা নামে একটি গল্প লিখলেন। গল্পটি লিখে পাঠালেন সেই সময়ের বিখ্যাত পরিচালক এডউইন পোর্টারের কাছে। পরিচালক গল্পটি পছন্দ করেন নি ঠিক, কিন্তু গ্রিফিথকে মনে হয় পছন্দ করেছিলেন। কেননা এরপরই পোর্টার তার রেসকিউড ফ্রম এ্যান ঈগল নেস্ট নামের চলচ্চিত্রে গ্রিফিথকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন।

গ্রিফিথের জীবনে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা এমন- একটি ঘটনা তাকে ঠিক পরের ঘটনায় নিয়ে গেছে। হঠাৎ করে তার জীবনে কিছুই হয় নি। একথা বললাম এ কারণে যে, চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে এসে তার পরিচয় ঘটে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লবায়োগ্রাফ কোম্পানির হেনরি মারভিনের সাথে। আর এই কোম্পানির প্রযোজনায় ১৯০৮ সাল থেকে নতুন পথ শুরু হয় গ্রিফিথের; তৈরি করেন তার প্রথম চলচ্চিত্র দি অ্যাডভেঞ্চারস অব ডলি। পরবর্তী ছয় বছরে গ্রিফিথ এক এক করে পরিচালনা করেন সাড়ে চারশ চলচ্চিত্র। এর মধ্যে কেবল ১৯০৯ সালেই ছিল ১৪৪টি। অবশ্য এগুলোর অধিকাংশ ছিল এক রিলের, ১০-১২ মিনিটের।

মাত্র চার বছরের মধ্যেই চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে গ্রিফিথ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এই জনপ্রিয়তা তার ভিতরে নতুন এক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তিনি চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন চিন্তা করতে থাকেন। কে জানত এই চিন্তাই জন্ম দেবে চলচ্চিত্রের যুগান্তকারী এক পর্বের। গ্রিফিথ চিন্তার একপর্যায়ে বায়োগ্রাফ কোম্পানিকে প্রস্তাব দেন দীর্ঘ ব্যাপ্তির একটি চলচ্চিত্র বানানোর। এসব ক্ষেত্রে যা হয়, দর্শক মনোযোগ হারিয়ে ফেলতে পারে ভেবে বায়োগ্রাফ কোম্পানি গ্রিফিথের প্রস্তাবে সায় দিল না। কী আর করা! ১৯১৩ সালে গ্রিফিথ নিজেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুলে বসলেন। দুই বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৯১৫ সালে নির্মাণ করলেন চলচ্চিত্রের ইতিহাসে পৌনে তিন ঘণ্টার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি দ্য বার্থ অব  নেশন

সূচনা হলো নতুন যুগের। দীর্ঘ ব্যাপ্তির এই চলচ্চিত্রটি দর্শক যেন লুফে নিল। বাণিজ্যিকভাবে বিশাল সফলতা লাভ করল চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রটি তৈরিতে খরচ হয়েছিল সেই সময়ের এক লাখ ১০ হাজার ডলার। কিন্তু আয় করেছিল দুই কোটি ডলার। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত দ্য বার্থ অব এ নেশন চলচ্চিত্রটির কোনো লিখিত চিত্রনাট্য বা শুটিং স্ক্রিপ্ট ছিল না।

 এরপর গ্রিফিথ ধারাবাহিকভাবে ইনটলারেন্স (১৯১৬), হার্টস অব দি ওয়ার্ল্ড (১৯১৮), ব্রোকেন ব্রুমস (১৯১৯), 

ওয়ে ডাউন ইস্ট (১৯২০), ড্রিম স্ট্রিট (১৯২১), ইজ নট লাইফ ওয়ান্ডারফুল (১৯২৪), ড্রামস অব লাভ (১৯২৮) নির্মাণ করেন। পূর্ণদের্ঘ্য এই সবগুলো চলচ্চিত্রই ছিল নির্বাক। ১৯২৭ সালে সবাক চলচ্চিত্রের আবির্ভাবের পর গ্রিফিথ আব্রাহাম লিংকন (১৯৩০) ও স্ট্রাগল (১৯৩১) নামে দুটি সবাক চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন।

গ্রিফিথ কেবল সময়গত দিক থেকেই চলচ্চিত্রে পরিবর্তন আনেন নি। তিনি চলচ্চিত্রের চিত্রভাষায় এমন কিছু কলাকৌশল ব্যবহার করেন যা তার আগে কেউ ব্যবহার করেন নি। পোর্টারের সময় পর্যন্ত ক্যামেরাকে এক জায়গায় স্থির করে রাখা হতো। গ্রিফিথ সেই ক্যামেরাকে আগে-পিছে, ডানে-বায়ে সচল প্রাণির মতো চালনা করে সৃষ্টি করলেন হাই ও লো অ্যাঙ্গেল শট। সফ্‌ট ফোকাস, নাইট ও মিস্ট ফটোগ্রাফি, ব্যাক লাইটিং ইত্যাদি- সবই গ্রিফিথের সৃষ্টি। ছড়ানো লং শটের পরেই ক্লোজ-আপ এবং ক্লোজ-আপের নানা নাটকীয় ব্যবহারে গ্রিফিথ চরিত্রদের অন্তস্থিত নানা মনোভাবকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছিলেন।

গ্রিফিথ শেখালেন- কেবল ছবির উজ্জলতার জন্যই নয়, সিনেমার অনেক বিচিত্রতা তৈরিতেও আলো বা সূর্যের ব্যবহার করা সম্ভব। তিনিই প্রথম উদ্ভাবন করলেন, কীভাবে কড়া রোদকে এড়িয়ে রিফ্লেকটার ব্যবহার করে চরিত্রের উপর তা নমনীয়ভাবে ফেলা যায়। শুধুমাত্র ক্যামেরা নয়, পরিবর্তন আনলেন এডিটিংয়েও। প্যারালাল এডিটিং বা ক্রস কাটিংয়ের মাধ্যমে প্যারালাল অ্যাকশন দেখিয়ে গ্রিফিথ ছবিতে সৃষ্টি করলেন নাটকীয়তা আর গতি।

ছড়ানো লং শটের পরে ক্লোজ-আপ আবার এক ক্লোজ-আপের পরে আরেকটি ক্লোজ-আপ স্থাপন করে গ্রিফিথ বক্তব্যকে এগিয়ে নেয়া বা ত্বরান্বিত করার স্বাধীনতা দিলেন। যুদ্ধরত সৈন্যদের দুটি শটের মাঝে স্থাপন করলেন এক নারীর ব্যাকুল মুখের ক্লোজ-আপ। এ ধরনের ক্রস কাটিং গ্রিফিথের সম্পাদনার এক বিশেষ দিক। মাঝে মাঝে আর একটু জটিলতায় গিয়ে গ্রিফিথ ত্রিমুখী ইন্টার কাট করেছেন। যা ছবির প্রকাশভঙ্গিকে আরও সমৃদ্ধতর করেছে এবং সময় ও স্পেসের শৃঙ্খল থেকে চলচ্চিত্র শিল্পকে মুক্তি দিয়েছে। এছাড়া গ্রিফিথ ১৯০৯ সালে  কর্নার অফ উ্যঈট সিনেমাতে প্রথম স্থির চিত্রের ব্যবহার করেন। দ্য ফ্যটাল আউয়ার (১৯০৮) সিনেমাতে প্রথম ব্যবহার করেন ফ্ল্যাশব্যাক।

যার হাত ধরে চলচ্চিত্র শিল্প এত উৎকর্ষতা পেল, চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে যিনি ¯^cœ দেখেছিলেন ঝঞ্জা, বিক্ষুব্ধতা, অস্ত্রের ঝনঝনানি দূর করে একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দেওয়ার- সেই মানুষটি নিজের শেষ জীবন সুন্দরভাবে কাটাতে পারেন নি। শেষের দিকে চলচ্চিত্র তৈরি করতে গিয়ে তিনি ধার দেনায় জড়িয়ে পড়েন। মৃত্যুর এক বছর আগে তিনি গিয়ে ওঠেন একটি হোটেলে। দিনের পর দিন কারো সঙ্গে তিনি একটি কথাও বলেন নি। হোটেলের লেটারবক্সে বিখ্যাত, জনপ্রিয় এই পরিচালকের নামে হাজার হাজার চিঠি আসত; কিন্তু কোনোদিন সেগুলো ছুঁয়েও দেখেন নি গ্রিফিথ। কী যেন একটা অভিমান গ্রিফিথকে ছুঁয়ে ছিল। মহান এই চলচ্চিত্রকার ১৯৪৮ সালের ২৩ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার টেম্পল হাসপাতালে ইহলোক ত্যাগ করেন। নিঃসঙ্গ এই মানুষটির পাশে তখন কেবল পাওয়া গিয়েছিল তার প্রিয় ছড়িটি।

দ্য বার্থ অব  নেশন, চলচ্চিত্রের নতুন ধারা

চলচ্চিত্রের নাম : দ্য বার্থ অব  নেশন

শট সংখ্যা : ১৩৭৫

সময় : ১৬০ মিনিট

সিনেমাটোগ্রাফি :  বিলি বিটজার

সংগীত : জোসেফ ব্রাইল

চিত্রনাট্য : গ্রিফিথ, উডস  ডিকসন জুনিয়র

প্রযোজনা : গ্রিফিথ  হারি অ্যাটকিন

দ্য বার্থ অব  নেশন এর জন্ম চলচ্চিত্র জন্মের মাত্র বিশ বছরের মাথায়।  দ্য বার্থ অব  নেশন দিয়েই গ্রিফিথ চলচ্চিত্রকে এক রিল থেকে নিয়ে যান ১৬ রিলে। ১০ মিনিট গিয়ে দাঁড়ায় ১৬০ মিনিটে। মূলত এই অবদানের জন্যই বিখ্যাত হয়ে আছেন গ্রিফিথ। প্রথম এই পূর্ণদের্ঘ্য চলচ্চিত্রটি টমাস ডিকসনের কাহিনী দ্য ক্ল্যানসম্যান অবলম্বনে নির্মিত। পটভূমি ছিল আমেরিকার গৃহযুদ্ধ। আব্রাহাম লিংকনকে হত্যা, আমেরিকার দক্ষিণ রাজ্যগুলোর পরাজয়, সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত দাসদের উদ্ধত আচরণ, কু ক্লুকস, ক্ল্যানদের অভ্যূত্থান সবকিছুই তিনি একটি ক্যানভাসে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯১৫ সালের ফেব্রয়ারি মাসে।

দ্য বার্থ অব  নেশন প্রথম পূর্ণদের্ঘ্য ছবি, কিন্তু এর লিখিত কোনো চিত্রনাট্য বা স্ক্রিপ্ট ছিল না। পুরোটাই ছিল গ্রিফিথের মাথায়। এজন্য তিনি একটি কৌশল অবলম্বন করেন। গ্রিফিথ সিনেমাটির কাহিনীকে প্রথমে ছোট ছোট দৃশ্যপটে ভাগ করে নিয়েছিলেন। এর আগ পর্যন্তও চলচ্চিত্র ছিল পুরোপুরি বর্ণনাত্মক। গ্রিফিথ বর্ণনা রীতিতে বিভিন্ন্‌ স্তরের প্রচলন করেন। দ্য বার্থ অব  নেশন এ দেখা যায় গ্রিফিথ এক দৃশ্যের সাথে পরের দৃশ্যের সামঞ্জস্য, নাটকীয়তা ও বক্তব্যের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দ্য বার্থ অব  নেশন নিয়ে গ্রিফিথের এত প্রচেষ্টার মূল্যায়ন তিনি নিজে করেছিলেন এভাবে- ‘এ ছবি দিয়ে যুদ্ধ সম্পর্কে যদি মানুষের মধ্যে একধরনের ঘৃণার জন্ম হয়, তবেই বুঝব আমাদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় নি।’

চলচ্চিত্র শুরুর প্রথম দৃশ্যেই আমরা দেখতে পাই প্রভাবশালী পার্লামেন্ট সদস্য অস্টিন স্টোনম্যানের বাসভবন। অস্টিনের মেয়ে এলসি ও তার দুই ভাইকে নিয়ে সিনেমার কাহিনী এগিয়ে যায়। উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকার মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে এলসির দুই ভাই ও তাদের বন্ধু ক্যামেরন যুদ্ধে যায়। যুদ্ধে এলসির ছোট ভাই মারা যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মক আহত হয় ক্যামেরন। সুস্থ হয়ে যখন ফিরে আসে তার সামনে তখন যুদ্ধবিব্ধস্ত দক্ষিন আমেরিকা। দাস-প্রথা বিলোপের ফলে তাদের উদ্ধত আচরণ, তার পরিবারের ওপর যুদ্ধের প্রভাব এবং সেই সাথে একটি মিষ্টি প্রেম সিনেমার কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

সিনেমাটিতে গ্রিফিথ চরিত্রের দ্বান্দ্বিক পর্যায়গুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে চিত্রায়ন করেছেন। ব্যবসায়িকভাবে দুই কোটি ডলার আয় করা চলচ্চিত্রটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও কম হয় নি। প্রশ্ন ওঠে চলচ্চিত্রটি নাকি কৃষ্ণাঙ্গ-বিরোধী মনোভাব থেকে তৈরি করেছিলেন গ্রিফিথ। কিন্তু সব বির্তক ছাপিয়ে গ্রিফিথ ও তার দ্য বার্থ অব  নেশন আজও বেঁচে আছে। বেঁচে থাকবে ততদিন, যতদিন থাকবে চলচ্চিত্রের ইতিহাস ।

সংকলক: রুম্পা রানী রায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ  সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী

brattomcj@gmail.com

 

সহায়কসূত্র

১.রফিক, মনিস (২০১০); চলচ্চিত্র বিশ্বের সারথি; রোদেলা প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা।

২.দাশগুপ্ত, ধীমান (২০০৬); চলচ্চিত্রের অভিধান; বাণীশিল্প, কলকাতা।

৩.মোকাম্মেল, তানভীর (২০০৩); চলচ্চিত্রকথা; প্যাপিরাস প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা।

৪.www.pbs.org/../621/DWGriffith

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন